:::: MENU ::::
  • slider image 1

    Take my hand, take my whole life too.

  • slider image 2

    I never want to live without you

  • slider image 3

    I am who I am because of you.

বুধবার, ২০ জুলাই, ২০১৬

  • ১:০১:০০ PM
মেয়েটির নাম "নিশা।"(গল্পঃপার্ট-১)


মেয়েটির সাথে প্রথম পরিচয় ২০০৮/০৯ সালে।তখন ফেসবুক এতটা জনপ্রিয় ছিল না অথবা ফেসবুক সম্পর্কে বেশিরভাগ মানুষই ছিল অজ্ঞ। আমার মত কিছু ইন্টারনেট পাগল ছেলে মেয়েরা ছাড়া নেট কি তা অনেকেই জানত না।আর আমরা যারা নেটে যেতাম তারা স্বাভাবিকভাবেই অপরিচিত মানুষের সাথে ফ্রেন্ডশিপ করার প্রতি বেশ আগ্রহী ছিলাম।
তার উপর চিঠিতে পত্র মিতালী করার এইজটাও গেল গেল প্রায় অবস্থা। সুতরাং প্রযুক্তির ছোয়া বলতে গেলে নেশার মত ছিল আমাদের কাছে। নেশা ছিল নতুন কিছু জানার,নতুন কাউকে জানার,নতুন কিছু করার। তবে আমাদের বয়সী ছেলে মেয়েদের সবচেয়ে আকর্ষনের জায়গা ছিল ফোরাম সাইট গুলো।
আজকে যেমন স্মার্ট ফোনের টাচ প্যাডে ছেলে মেয়েরা সারাক্ষন টুকাটুকি,ঠুকা ঠুকি করে, মেসেঞ্জার,ইমো,হোয়াটস এপ ইত্যাদিতে চ্যাটিং করে,ফ্লাটিং করে,তখন তো আর এগুলো ছিল না তাই মোবাইলের বাটন টিপে মিগ এ কিংবা দেশি কিছু ফোরাম সাইটে আড্ডা মারা,চ্যাট করা ছিল সবচেয়ে বড় নেশা।অনেক সময় দেখা গেছে,টয়লেটের কমোডে বসেও চ্যাটিং করতাম । যাই হোক,তখন যে কটা চ্যাটিং প্লাটফর্ম ছিল তার মধ্যে একটা ওয়েব সাইট ছিল সুমন সেলিম ভাইয়ের ফ্রেন্ডস বিডি.নেট।আরো দু একটার মধ্যে ছিল ফ্রেন্ডস দুনিয়া,আড্ডা খানা ইত্যাদি। এসব সাইটে আমি সাধারত "স্বপ্নবাজ" নামে আইডি ইউজ করতাম। মূলত তখন নতুন নতুন ইন্টারনেট ইউজার আমি।অতএব সাধারণ কৌতুহল বশত কিংবা আর সবার চেয়ে নিজেকে আপডেট রাখার জন্য নেট ছিল আমার অত্যন্ত প্রিয় একটা বিচরণ ক্ষেত্র।
যাই হোক,
যে মেয়েটির কথা আমি এখন বলতে যাচ্ছি তার সাথে আমার প্রথম পরিচয় হয়েছিল ফ্রেন্ডস বিডি.নেট এ।তারপর বন্ধুত্ব এবং গভীর বন্ধুত্ব।যা আজো কম বেশি টিকে আছে। ফ্রেন্ডস বিডিতে লিংক কিংবা ফোন নাম্বার শেয়ার করা ছিল অপরাধ এবং কেউ ফোন নাম্বার কিংবা ইমেল কিংবা অন্য সাইট লিংক শেয়ার করলে তা স্পাম হিসেবে পরিগনিত হত,কখনো সখনো আইডি সাময়িক বা স্থায়ীভাবে ব্যান করা হত।তাই প্রাইভেট কিংবা পাবলিক যাই হোক না কেন চ্যাটরুমে শুধু চ্যাটিং করা যেত, নাম্বার লেনদেন করতে পারতাম না।বা করার অনুমতি ছিল না।
কিন্তু আমাদের বন্ধুত্বকে স্থায়ী এবং সুন্দর করার জন্য নাম্বারটা আদান প্রদান ছিল প্রচন্ড রকম জরুরী। আমাদের বন্ধুত্ব গাঢ় থেকে গাঢ়তর হচ্ছিল দিনদিন। আর যত গাঢ় হচ্ছিল ঠিক ততটাই দুজন দুজনার সাথে কথা বলার জন্য ব্যাকুল হয়ে পড়লাম। তাই যেকোন ভাবেই হোক না কেন ফোন নাম্বার আদান প্রদান করতেই হবে।
তারপর একদিন।
একদিন আমি ওকে কৌশলে আমার নাম্বারটা দিলাম।কৌশল তেমন কিছু না জাষ্ট একটা সংকেত। এই যেমন ধরুন সংকেতটা ছিল এরকমঃ ০agfh fgbffg। ও বেশ বুদ্ধিমতী মেয়ে ছিল।খুব দ্রুত সংকেতের মিনিং করে ফেলেছিল। আমার বিশ্বাস ছিল ও আমাকে ফোন দেবে।কিন্তু কখন আর কোনদিন দেবে তা ভেবে পাচ্ছিলাম না। নাম্বার দেয়ার পর থেকে একটা অস্থিরতা কাজ করছিল আমার মধ্যে। সারাক্ষণ শুধু এটাই ভাবছিলাম,"কখন সে ফোন দেবে? আর কখন কথা বলব? "
নিজে নিজেই অস্থির হচ্ছিলাম আবার নিজের এই অযাচিত অস্থিরতার জন্য নিজেকেই গাল দিচ্ছিলাম। "আশ্চর্য! আমি কেন এত অস্থির হচ্ছি? ও তো জাস্ট আমার বন্ধু।তাছাড়া তো আর কিছু না! তবে কেন আমি এমন করছি!!! হ্যাভ আই ফলেন ইন লাভ? অর এম আই গোয়িং টু ফল ইন লাভ?"
যাই হোক,এক পর্যায়ে নিজেকে বোঝাতে সক্ষম হলাম, "ও শুধুই আমার বন্ধু।আর কিছু না।"
নিজের মনকে বোকা বানিয়ে রাখালাম।কিংবা বোকা বানানোর আপ্রাণ চেষ্টায় সম্ভবত সফলই হলাম।কিন্তু তবুও হৃদয়ের কোন এক কোণে ভালবাসার প্রদীপের মিটিমিটি আলো জ্বলে রইলো।কিন্তু পাত্তা দিলাম না।ভয় হলো,যদি ভালবাসাটা আমাদের বন্ধুত্বকে নষ্ট করে দেয়! তাহলে??
এরপর সারাদিন গেল।গোধূলির লাল পশ্চিমের দিগন্তে মিশে আধারের চাদরে পৃথিবী ঢাকলো।কিন্তু ও ফোন করল না। অনলাইনে বার কয়েক গিয়েও দেখা পেলাম না। নিজের মনে নিজেকে বলে উঠলাম,"তবে কি আমি ভুল করলাম? ওকে নাম্বারটা দেয়া কি আমার উচিত হয়েছিল?"
মন একই সাথে ইতিবাচক আর নেতিবাচক উত্তর দিলো।দ্বিধান্বিত মনে নিজের ভুলের জন্য নিজেকে দোষারোপ করলাম।বারবার মনে হতে লাগলো,
"একি করলাম আমি?"
আর যতবার এ কথা মনে হচ্ছিল ঠিক ততটাই চাপা কষ্ট বুকে এসে জমা হলো। ভীত হয়ে গেলাম হারানোর ভয়ে।ওর বন্ধুত্ব হারানোর ভয়ে কিংবা হৃদয়ের কোনে মিটিমিটি ভালবাসার যে প্রদীপ জ্বলছিল তা নিভে যাবার ভয়ে।
এদিকে রাত ক্রমেই গভীর হতে শুরু করেছে।আর সেই সাথে পূর্ব দিগন্তে ছোপ ছোপ মেঘের আড়াল থেকে চাঁদ উঁকি দিতে শুরু করল যেন।যখনই মেঘের আড়াল থেকে চাঁদ বেড়িয়ে আসে তখনই তার রুপোলী জোসনা ছড়িয়ে পড়ে চারিদিকে।তারই কিছু কিছু জানালার পাশে ঠায় দাঁড়িয়ে থাকা নাড়িকেল গাছের পাতার ফাঁক দিয়ে এসে পড়ে আমার লজ্জাবনত, অপরাধী মুখের উপর।
তারপর রাত ১২ টা নাগাদ একটা অপরিচিত জিপি নাম্বার থেকে ফোন এলো। ফোন রিসিভ করতেই ওপাশ থেকে মেয়েলি কণ্ঠস্বর, "স্বপ্নবাজ? "
আমি বললাম,"হুম।কে বলছেন প্লিজ? "
-"বল,তো কে আমি? "
যদিও আমার মন বলছিল,"এ তো সে! ,যার জন্য তোর মন আজ এতোটা ব্যাকুল।" মনের কথা মনে রেখে বললাম,
-"সরি,আমি আপনাকে চিনতে পারলাম না"।
-"এই,আমি "নিশা "।
-নিশা!
নিশা নামটা শোনার সঙ্গে সঙ্গে যেন বুকের মধ্যে একটা ভূকম্পন শুরু হলো। এতক্ষন যতটা অস্থির ছিলাম ওর ফোন পাওয়ার জন্য, ঠিক ততটাই নার্ভাস হয়ে গেলাম ফোন পাওয়ার পরে।কি বলব আর কিভাবে বলব, কিছুই যেন মাথায় আসছিল না।এমনকি অনেক গুছিয়ে রাখা কথাগুলোও অগোছালো হয়ে গেল এক নিমেষে। বলতে গেলে আমি বাকশূন্য হয়ে গেছি তখন।
লক্ষ্য করলাম কপালে বিন্দু বিন্দু ঘাম জমতে শুরু করেছে,কন্ঠ রুদ্ধ হয়ে আসছে,হার্ট বিট দ্রুত থেকে দ্রুততর হচ্ছে।
তারপরেও যতটা সম্ভব নিজেকে স্থির করে বললাম,"নিশা! তুমি? "
মিষ্টি হেসে নিশা বলল,"কেন মিস্টার,অন্য কাউকে এক্সপেক্ট করেছিলে নাকি?"
-"আরে না না।ওরকম কিছু না।এই এমনিতেই..."আমি কিছুটা নার্ভাস হয়েই উত্তর দিলাম।
নিশা একটু থেমে মুচকি হেসে বলল,"আরে বাবা বুঝি বুঝি! এক্সপেক্ট করাটা কিন্তু অস্বাভাবিকও না! এত রাত যখন,এক্সপেক্ট করতেই পারো! কর কর,অসুবিধা নেই! "
তারপর একটা অট্টোহাসি , "হা হা হা :)"
নিশার ইঙ্গিত বুঝতে আমার বাকি রইলো না।ওর সাবলীল কথা বলা, মজা করা আর প্রাণ খোলা হাসিতে আমিও হেসে ফেললাম।
আর এই কিছুক্ষণ আগে যতটা নার্ভাস ছিলাম ওর এই একটি কথা আর প্রাণ মাতানো,মন ভুলানো হাসি যেন এক নিমিষে তা মহাজগতের বাহিরে ছুড়ে ফেলল। মনে মনে ভাবলাম,"কারো হাসি এতটা মিষ্টি,এতটা মধুর হতে পারে! আরে ইয়ে তো মুঝে মার ডালা রে,মার ডালা! "
সেদিন পরিচয় পর্ব যেন আবার নতুন করে শুরু হলো।কথায় কথায় ফ্রেন্ডস বিডি থেকে ফ্যামিলি এন্ড ফ্রেন্ডস সব কিছু নিয়ে গল্প করলাম ভোর রাত পর্যন্ত।
আর এই তো ছিল শুরু।
তারপর থেকে প্রায় প্রতিদিন আমাদের দুরালাপনিতে রাত্রি দিন এক হত।ধীরে ধীরে আমাদের বন্ধুত্ব আরো গভীর হলো। যদিও আমার মধ্যে ওর প্রতি একটা সুক্ষ্ণ দূর্বলতা ছিল কিন্তু বন্ধুত্বকে অমরত্ব দিতে সেই সুক্ষ্ণ দূর্বলতাকে ভুলে গেলাম।কিন্তু বিশ্বাস করেন,আমাদের বন্ধুত্বের মধ্যে যত আলাপ হত,আমরা একে অপরের যতটা কেয়ার নিতাম আমি হলফ করে বলতে পারি,"কোন প্রেমিক জুটিও পরস্পরের প্রতি এতটা কেয়ারী ছিল না।"
আর এই কেয়ার,ঘন্টার পর ঘন্টা কথা বলা,রাতের পর রাত জেগে গল্প করা,জোসনার আলোয় ভিজে ভিজে স্বপ্ন দেখা, কিংবা অমাবস্যার মনখারাপ করা অন্ধকারে হৃদয়ে জমে থাকা মেঘের বৃষ্টি আমাদের দুজন কে অনেক কাছাকাছি এনে দাড় করিয়ে দিল।দুজনার হাজারো সুখ দুঃখকে ভাগাভাগি করে নিলাম দুজন। রাতের পর রাত সুখ গুলো ভাগ করে নিলাম,হাসি ঠাট্টায় মন খারাপের রাত্রিগুলোও মাঝে মাঝে হেসে উঠত আমাদের বন্ধুত্ব দেখে কিংবা বন্ধুত্বের আড়ালে লুকিয়ে থাকা ভালবাসা দেখে।
কিন্তু সে ভালবাসার কথা বলা যেত না।কিংবা বুঝেও অবুঝ হয়ে থাকতে হত শুধু এটা ভেবে যে,যদি আমার কোন আচরণ আমাদের বন্ধুত্বকে নষ্ট করে দেয়!তাহলে??
তাহলে তো ভালবাসার মানুষটার মুখের কথাটা শুনতে পাব না।হয়ত আর কখনোই না। সুতরাং বন্ধুত্বের আড়ালেই না হয় আমার ভালবাসা লুকিয়ে থাক সারাজীবন!
#
এভাবে প্রায় এক বছর কেটে গেল।দেখতে দেখতে সময়টা যে কিভাবে পার হয়ে যায় আসলে বুঝাই যায় না। কিন্তু ফেলে আসা সময়ের দিকে তাকালে আন্দাজ করা যায়,ঠিক কতটা অনুভূতি,কতটা সময় স্মৃতি হয়ে জমা হয়ে গেছে জীবনের খাতায়।বর্তমানে যা ছুয়ে দেখা যায়,সেটাই যখন অতীত তখন স্মৃতি হাতড়ে হয়ত খুঁজে পাওয়া যায় কিন্তু ছুঁয়ে দেখা যায় না। সেটা যে সেখানেই স্থির হয়ে থাকে যেখানে ফেলে আসা হয়।শুধু তার কিছু স্মৃতি অনুভূতিকে টেনে বেড়ায় মস্তিস্কের মেমরি স্লটে।।
আমারো ঠিক একই অবস্থা হয়েছিলো যেদিন নিশা আমাকে তার গল্প বলেছিল। ভয়ংকর, নির্মম,নিষ্ঠুর, লজ্জার সেই গল্প।যা আমার মনের গভীরে লুকিয়ে থাকা ভালবাসাকে চিরদিনের জন্য বন্ধুত্বের আড়ালে আবদ্ধ করতে বাধ্য করেছিল। শুধু আবদ্ধ করতে পারিনি,যে স্মৃতিগুলো বন্ধুত্বের আড়ালে ভালবাসা হয়ে জমা হয়েছিল দুজনার হৃদয়ে।।
সেদিন ছিলো আষাঢ়ের বৃষ্টিস্নাত এক ঘুটঘুটে আধারের রাত। বাহিরে মষুলধারে বৃষ্টি পরছে।আর এমন এক বৃষ্টি স্নাত রাতে মনটা ভীষণ ভাবে কারো মিষ্টি কথা শোনার জন্য ব্যকুল ছিল।ইতোমধ্যে এতদিনের হাজারো কথা আর অকথার ভীরে নিশার মনে যে আমার প্রতি কি ফিলিংস তা বুঝতে বাকি নেই। আমি জানি সেও আমার মত দ্বিধান্বিত। নানা ছলে সেও অনেক চেষ্টা করেছে তার মনের কথা আমাকে বলতে।কিন্তু আমিই বুঝেও অবুঝ ছিলাম।ভাবছিলাম,কথাটা ওর মুখ থেকেই আগে শুনি না কেন!
কিন্তু তা আর হয়নি।
তাই আজ এরকম এক রাতে আমি পুরোপুরি প্রস্তুতি নিয়েছিলাম নিশাকে লুকিয়ে রাখা মনের কথাটা বলেই ফেলব।আমি জানি,নিশাও আমাকে মনে মনে ভালবাসে। আর সে হয়ত আমার মুখ থেকেই প্রথম কথাটা শুনতে চায়।তাই অনেক ভেবে চিনতে ওকে আজ মনের কথাটা বলবই বলব।এরকমই পণ করেছিলাম। তারপর বেশ রাতে কিছুটা নার্ভাসনেস আর বেশ খানিকটা আশা নিয়ে নিশাকে ফোন দিলাম।
ফোন রিসিভ করেই মিষ্টি একটা হাসি দিয়ে বলল,"হাই,কেমন আছো? বৃষ্টি হচ্ছে?? "
-"হুম। অনেক বৃষ্টি।" বেশ খানিকটা উৎফুল্লতা নিয়ে ওকে উত্তর দিলাম।
-"বৃষ্টি আমার ভীষন ভাল লাগে।"
-হ্যা,জানি তো।আর সেই সাথে প্রিয় মানুষ যদি পাশে থাকে ত কথাই নেই! হা হা হা।
-"তা যা বলেছ। আরে এই জন্যেই তো জসীম উদ্দিন লিখেছিলেন,
"আজিকে বাহিরে শুধু ক্রন্দন ছলছল জলধারে,
বেণু বনে বায়ু নাড়ে এলো কেশ,মন যেন চায় কারে! " হা হা হা।
আমি ওর কথায় একটু খোঁচা দিয়ে বললাম,
"তা ম্যাডাম,আপনার কার কথা মনে হচ্ছে, শুনি? "

(চলবে....ফেসবুক পোষ্টঃ ২০ জুলাই ২০১৬)
কপিরাইটঃ নীলকান্ত

সোমবার, ২০ জুন, ২০১৬

  • ৪:০০:০০ PM


তোমাকে নিয়ে লেখা কবিতার দিকে তাকালে
আজ ঘেন্না হয়।
বড্ড বেমানান তোমার সাথে।
এক একটি কবিতা যেন,
ল্যাম্পপোস্টের নিচে দাঁড়িয়ে থাকা এক একটি পতিতা।
আর সেই-
পতিতা কবিতাগুলোর প্রতিটি পঙক্তি যেন আজ
সেঁজে গুঁজে খদ্দর খুঁজে বেড়ায় রাতে,
আঁধারে।
বড্ড বেমানান সেই সব উপমার যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে রাতের ল্যাম্পপোস্ট গুলো।
আমায় অন্ধ বলে।
বলে, আমি নাকি রাতকানা। তাই-
পতিতার হৃদয় খুঁজে ভুল করেছি!
যে হাসনাহেনার সাথে কবিতা জুরে ছিল,
সেও আজ প্রশ্ন তোলে।
মানহানির মামলা ঠুকে দেবে বলে ভয় দেখায়!
বলে-
আমি নাকি গন্ধ বুঝি না।তাই-
কবিতার শরীরের পঁচা গন্ধকে
আমি নাকি ভেবেছিলাম হাসনাহেনা!
সত্যিই কি তবে আমি ভুল করেছিলাম-
আঁধার কে আলো ভেবে?
মাংস পঁচা গন্ধকে হাসনাহেনার গন্ধ ভেবে?
হ্যা,হয়ত আমারই ভুল ছিল।
ভুল ছিল,পতিতা কবিতার সঙ্গ চেয়ে।।
#নীলকান্ত
#ঘৃণা #সেই #সব #তাদের #প্রতি
  • ৩:৫৫:০০ PM
অবশেষে মা'কে বললাম,"মা,তোমার পুত্র বধু খোঁজ।"
মা আমার কথা বিশ্বাস করতে পারছিল না। অবাক হয়ে জিজ্ঞাসা করল,"কেন? ওর সাথে কি রাগারাগি হয়েছে?"
মাকে বললাম, "না মা, রাগারাগি হয়নি।"
মা তবুও যেন বিশ্বাস করতে পারল না। আর কিভাবেই বা করবে! যে মেয়েটার জন্য এত কিছু সহ্য করলাম,যার জন্য জীবনটাকে ট্রেজেডি সিনেমা বানালাম, সেই মেয়েকে ছেড়ে অন্য কাউকে বিয়ে করব সেটা অবিশ্বাস্যই বটে!
মা তাই সত্য উদঘাটনের জন্য ওর নাম্বারে ফোন দিল।ফোন বন্ধ।
শেষ পর্যন্ত ঘুরে ফিরে ফোন টা আমার কাছেই এলো।
"হ্যালো মা,আসসালামু অলাইকুম। বল মা।" আমি ফোন রিসিভ করেই বললাম।
মা একটু অবাক হয়ে বলল,"এ নাম্বার তোর কাছে কেন? এটা তো আমার বৌমার কাছে থাকার কথা।"
মা'কে বললাম,"না মা,তুমি যে নাম্বারে ফোন দিয়েছ সেটা বোধহয় বন্ধ আছে।"
আমার মা খানিকটা চুপ থাকলেন।
তারপর বললেন,"সত্যিই কি ওর সাথে ব্রেক আপ হয়েছে?"
আমি আমার স্মার্ট মা'কে বুঝিয়ে বললাম,"মা,সব কিছু সব সময় সুখকর নাও হতে পারে। বিশেষ করে যদি তোমাদের পছন্দমত বিয়ে না করি তবে তো নয়ই।"
মা একটু দুঃখভরা হাসি হেসে বললেন,"কিন্তু তবুও।তোর পছন্দের ব্যাপারে তো আর না করিনি।"
মা'কে বললাম,"বাদ দাও তো মা। যে যাবে সে তার কপাল নিয়েই যাবে।কিন্তু এবার যে তোমাদের দায়িত্ব বেড়ে গেলো।এতদিন তো ফ্রি ছিলা।ছেলের বৌ খোঁজার টেনশন ছিলো না।
এবার সেই টেনশনটা তোমাদের উপরই ন্যস্ত করলাম!"
আমার হঠাৎ পরিবর্তন যে মা ভালভাবে নিতে পারছেন না তা বেশ বুঝতে পারছিলাম।তাই আরো ডিটেইলসে বললাম,
"মা,একটা মেয়ে দেখ।এতিম একটা মেয়ে।যার বাবা মা কেউ নেই।কোন ব্যাকগ্রাউন্ড নেই।কোন পিছুটান নেই।সেরকম একটা মেয়ে।"
"ও হ্যা,মেয়ে শ্যামলা হোক কিংবা ফর্সা হোক তাতে যায় আসেনা।মেয়ে অবশ্যই লম্বা, স্লিম এবং অশিক্ষিত কিংবা অল্প শিক্ষিত হতে হবে।"
মা আমার কথায় বাধা দিয়ে বললেন,"অল্প শিক্ষিত  কেন!"
আমি বললাম,"যেটুকু শিক্ষা বাকি থাকবে সেটুকু আমিই ওকে দিয়ে দেব।"
মা আমার কথার মানে বুঝলেন বলে মনে হয়না। তাই হুম বলে ফোনটা রেখে দিলেন।
তারপর দুদিন গেলো।মা হঠাৎ রাত দশটা নাগাদ ফোন দিলো।ফোন রিসিভ করে মাকে সালাম দিতেই মা উত্তর নিয়ে বলল,"একটা মেয়ে পাইছি।"
আমি তো অবাক! মা বলে কি এটা! দুই দিনেই মেয়ে জোগার করে ফেলল।তাও আবার বিয়ে করার জন্য!!!! কি করে সম্ভব।আমি তো এত তাড়াতাড়ি চাইনি। দু এক মাস দেরী হলেও কোন সমস্যা ছিল না। আর এত দিন জানতাম,প্রেম করার মেয়ে এভেইলেবল হলেও বিয়ের পাত্রী পাওয়া কঠিন।কিন্তু মা যে দু দিনেই পাত্রী যোগার করে ফেললেন!!
মা মেয়ের বর্ণনা করতে ব্যস্ত।মেয়ে প্রাইভেট মেডিক্যালে পড়ে,বাবা মা নেই,নানার বাড়িতে মানুষ, গায়ের রঙ ফর্সা, হাইট পাঁচ দুই,তোকে চেনে ইত্যাদি।তারপর যখন সারা গোষ্ঠীর পরিচয় বর্ণনা শেষ তখন আমাকে বলল,"কি রে, পছন্দ হইছে?"
আমি বললাম,হুম।খুব পছন্দ।কিন্তু আরো কিছুদিন দেরী করতে হবে যে!
মা আরো অবাক হয়ে বলল,"কেন?তুই তো বললি বিয়ে করবি।"
আমি বললাম,"করব।তবে এখনই যে করব তা তো বলিনি।আর দুই একটা মাস কি দেরী করা গেল না?"
মা আমার হাসতে হাসতে বলল,"ওই একই কথা।এখনই তো বিয়ে হচ্ছে না।"
আমি বললাম,"হবেও না।আর মেয়েটা তো বেশি শিক্ষিত!"
  • ৩:৪০:০০ PM
বাবা,
প্রথম যখন বুঝতে শিখলাম সম্পর্ক কি,তখন চার পাশে হাতড়ে তোমায় পাইনি।পরিবারে দাদা-দাদী,চাচা,ফুফুরা, মা সবাই ছিল শুধু তুমি ছিলে না।পরে জানলাম তুমি দেশের বাহিরে। চাকুরীর প্রয়োজনে হাজার হাজার মাইল দূরের অরন্য ঘেরা আফ্রিকায়। অবশ্য তখন ভূগোলের কোন ধারনা ছিল না আমার।না ছিল মাইল বা কিলোমিটারের ধারনা।শুধু জানতাম আফ্রিকা অনেক অনেক দূরে।  মাকে বলতাম,"মা,আফ্রিকা কত দূর?"
মা বলত, "অনেক অনেক দূরে। সমুদ্র পাড়ি দিয়ে যেতে হয়।"
সমুদ্র বলতে এটা জানতাম যে এটা অনেক বড়।সমুদ্রের নাকি কোন শেষ নেই।তাই মনে মনে ভাবতাম,সমুদ্র পাড়ি দেবে কি করে? নিশ্চয়ই জাহাজে করে।জাহাজও নাকি অনেক বড়।সমুদ্রে চলে।
তাহলে তো জাহাজেই পাড়ি দেবে, তাই না মা?
মার কাছে অবাক হয়ে জানতে চাইতাম।
মা বলত, "না রে ব্যাটা, তোমার বাবা প্লেনে গেছে।"
প্লেন অবশ্য চিনতাম তখন।ওই যে মেঘের উপর দিয়ে শব্দ করে করে উড়ে যায় যে, সেটা। কিন্তু ছোট্ট প্লেনটা মাটিতে কি করে নামে জানা ছিল না। মাকে একদিন বললাম," মা,প্লেন কত বড়? মাটিতে নামে কি করে?"
আমার মা অর্ধশুক্ষিত হলেও ভূগোল আর আধুনিক দুনিয়ার অনেক কিছুই জানতেন। কিংবা তোমার চিঠি পড়ে পড়ে বর্ণনা করতেন প্লেন,প্লেনের ল্যান্ডিং কিভাবে হয়। মায়ের ভাষায় তখন প্লেন ছিল,"বড় বড় বাসের মত"।
কিংবা কখনো সখনো আমাদের চৌচালা ঘর দেখিয়ে বলতেন,"এই এত বড় তো বটেই।"
আমি প্লেন কে বাস কিংবা ঘরের মতই মনে করতাম।শুধু জানতাম,প্লেন বাসের মত সরক দিয়ে যায় না।যায় আকাশ দিয়ে উড়ে।
জানো বাবা,তারপর থেকে যখনি মাথার উপর দিয়ে প্লেন উড়ে যেত,কিংবা প্লেনের শব্দ পেতাম তখন দৌড়ে বাহিরে দাঁড়িয়ে হাত উচু করে ডাকতাম।
আর বলতাম,"ও প্লেনওয়ালা,আমার আব্বাকে নামায়া দিয়া যাও।"
কিন্তু প্লেনওয়ালারা আমার কথা শুনত না।আস্তে আস্তে মেঘের আড়ালে হারিয়ে যেত।আমি অপেক্ষায় থাকতাম,কবে আমার বাবা ফিরে আসবে!
এরপর যখন তুমি দেশে ফিরলে তখন আমি মহা খুশি। বিদেশ থেকে আনা টেন ব্যান্ডের রেডিও আর ইয়াশিকা ক্যামেরার ফ্লাশের সামনে সামনে থাকা যেন আমার নেশা হয়ে গেল।যেই ছবি উঠতে যাবে সেখানে রেডিও হাতে আমি আছিই। হা হা হা।
বাবা,মনে আছে এসব কথা?
যাই হোক,
তারপর ধীরে ধীরে বড় হলাম।স্কুলে গেলাম।লেখাপড়া শিখতে লাগলাম। তোমার সাথে ঘুরতে লাগলাম এক কর্মস্থল হতে অন্যথায়। এভাবেই বেশ যাচ্ছিল।এরপর একটা সময় এলো।তোমার দুষ্ট ছেলেটা তখন বেয়ারা প্রায়। আষ্টম শ্রেনী পাশ করলাম। সাথে সাথে যিদ আর রাগ যেন বেড়ে গেল।
বয়সের চেয়ে যেন সবকিছু বেশিই বুঝতে শিখলাম। তোমার কিংবা মায়ের অবাধ্য হতেও বাধল না। তোমার মনে একটার পর একটা কষ্ট দেয়া যেন নিয়মিত হয়ে গেল।শাসন করলে কিন্তু তা যেন আগুনে ঘি ছিটানোর মত ছিল তখন। তখন মনে হত,আমিই ঠিক বাকি সব ভুল।আর তাই একের পর এক কষ্ট দিতে এতটুকু দ্বিধা করিনি তোমাকে। তারপরেও তুমি সব ভুলে আমাকে বুকে টেনে নিয়েছ রক্তের কারনে।
বাবা,আজ আমি আমার পুরোনো ভুলের জন্য লজ্জিত। আজ বুঝি আমি কতটা ভুল ছিলাম। এখন বুঝি, তোমাকে কতটা কষ্ট দিয়েছি।
তখন যে ভুল করেছিলাম তা তো আর সুধরাতে পারব না কিন্তু নতুন করে যেন ভুল না করি আজ সেদিকে খেয়াল রাখতে শিখেছি।
বাবা,
সব কিছুর পরে একটা কথা তোমাকে বলতে খুব ইচ্ছে করে।যদিও সামনাসামনি কখনো বলতে পারিনি।পারবও না। আবার এখানে লিখলে তুমি দেখবেও না,তাই বলতে পারছি-
"বাবা,আই লাভ ইউ।"

বুধবার, ১৫ জুন, ২০১৬

  • ৪:৪৫:০০ AM
প্রিয়তমা,
বুকের মধ্যে চিনচিন করছে।একটা অস্ফুট হাহাকার বুকের ভেতরটা ফালাফালা করে দিচ্ছে অবিরত।  এ ব্যাথাটা যে কেমন ব্যাথা জানো তুমি?
জানো হয়ত কিন্তু বুঝ না। বুঝলেও অনুভব করতে পারবে না তুমি। এটা কষ্টের এমন এক মাঝামাঝি অবস্থা যেখানে অনুভূতি গুলো ভোঁতা হয়ে যায়,হৃৎপিন্ডের উঠানামা শিথিল হতে শিথিলতর হয়, কষ্টগুলো অশ্রু হয়ে বেড়িয়ে আসতে চায় কিন্তু পারেনা।
স্মৃতিগুলোর আর্তনাদে কেঁপে কেঁপে উঠে হারানোর ভয়ে ভীত স্বপ্নগুলো।তারপর ধীরে ধীরে চোখটা ছলছল করে উঠে কিন্তু লোনা জল লোক লজ্জার ভয়ে লুকিয়ে থাকে চক্ষু গহবরে।
প্রিয়তমা,
এ ব্যাথা যে কেমন ব্যাথা তা বুঝানো যায়না।বুকের পাঁজর দুপাশ থেকে চেপে ধরে হৃৎপিন্ডটাকে। ঘাড়ের রগ টেসে আসে,স্মৃতির পিছুটানে মস্তিস্কের নিউরন ছিড়ে যেতে চায়,যায় না।ভাবি, হয়ত ছিড়ে গেলেই ভাল হত।
মুছে যেত সব।ভুলে যেতাম সেই সব একশত বিশ শতাব্দীর স্মৃতিগুলো! আমাকে দেখানো তোমার সেই স্বপ্নগুলো।
প্রিয়তমা,
তুমি চলে গিয়ে সুখী হতে চাও।হও তুমি সুখী হও।কিন্তু শতাব্দীর স্মৃতিগুলো সঙ্গে নিয়ে যেও প্লিজ। আমি এ স্মৃতির ভার সইতে পারছিনা।
ভাল থেক প্রিয়তমা। দরজা খুলে রেখেছি।পারলে চুপিসারে চলে এসো কাছাকাছি। স্মৃতিগুলো নিয়ে যেও অথবা স্মৃতিগুলো বেঁধে রেখ তোমার আমার রাগ-অভিমানের, সুখ-দুঃখের সোনালি ফ্রেমে।
#নীলকান্ত
Writer information NILKANTO