:::: MENU ::::
  • slider image 1

    Take my hand, take my whole life too.

  • slider image 2

    I never want to live without you

  • slider image 3

    I am who I am because of you.

বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর, ২০১৫

  • ১০:৫১:০০ PM
১
সুনসান নীরবতা চারিদিকে।গাড়ির মধ্যে যে ক'জন যাত্রী আছে তারাও সবাই অঘোর ঘুমে অচেতন। শুধু নীলের চোখে ঘুম নেই।সাধারণত গাড়িতে উঠলে ঘুম-টুম আসে না ওর।কিন্তু শরতের নাতিশীতোষ্ণ এমন এক রাতে বাহিরের খোলা হাওয়া যখন মুখে এসে লাগে তখন ঘুম আপনা আপনি চলে আসে।নীলও খানিকটা তন্দ্রাচ্ছন্ন হয়েছিলো বৈ কি! কিন্তু হঠাৎ করে চেতনা ফিরে সামনে তাকাতেই রাতের অপূর্ব সৌন্দর্য ওর ঘুম কেরে নিলো।সত্যি অপূর্ব সুন্দর লাগছে। যতদূর চোখ যায় টানা রাস্তা। একদম ফাঁকা।
শা শা করে গাড়ি এগিয়ে চলছে কিন্তু
ফাঁকা রাস্তার দু পাশে দাড়িয়ে থাকা গাছ গুলোর উপর গাড়ির হেড লাইট পড়ে মনে হচ্ছে কোন গুহার মধ্যে স্থির দাড়িয়ে আছে গাড়িটা আর দু পাশের গাছ গুলো দ্রুত সরে যাচ্ছে পেছন দিকে। বহুদূর পর্যন্ত কোন যানবাহনের চিহ্ন চোখে পড়ছে না।যেন অন্য কোন পৃথিবীতে, অন্য কোন রাস্তা এটা।কিন্তু ছোট বেলা থেকে কতবার যে এ রাস্তায় যাতায়াত করেছে তার হিসেব নেই। আসে পাশের সব কিছু নীলের নখ দর্পণে। তারপরেও সব কিছু অচেনা, ভারী অচেনা লাগছে আজ।
নীল ওর ব্যাগ থেকে হেডফোন টা বের করে কানে লাগালো।এই মুহূর্তে ও কোন গান শুনবে না, ওর নাকি গভীর রাতে গান শুনার চেয়ে ইন্সট্রুমেন্টাল মিউজিক শুনতে ভালো লাগে। তাও সলো মিউজিক।বিশেষ করে গিটার কিংবা সেতারের । ফোন ঘেটে ঘুটে বেশ কয়েকটা মিউজিক সিলেক্ট করে রিপিট অল করে দিলো। হেডফোনের ভলিউম টা মাঝামাঝি রেখে হেলান দিয়ে বাহিরে তাকিয়ে এই প্রকৃতি উপভোগ করার মজাটাই আলাদা।এর আগেও যতবার কোথাও গেছে সে ট্রেনেই হোক আর বাসেই হোক,এই মজাটা নিতে ভুলে নি।
ওর মতে,
"যদি দু'চোখ ভরে পৃথিবীকে দেখতেই না পেলাম তবে এ দু'চোখের মূল্য কি!  প্রাণ ভরে কোন কিছু দেখার চেয়ে আনন্দের কিছু নাই।সে রমনীই হোক আর প্রকৃতিই হোক।তাই ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে এই আনন্দ আমি মিস করতে চাই না।"
গাড়ি দ্রুত বেগে এগিয়ে চলছে সামনের দিকে,আর দু'পাশের গাছ গুলো সরে যাচ্ছে পেছনে। অনেক ক্ষন পরপর দু'একটা নাইট কোচ কিংবা ট্রাক হেড লাইট উচু করে পাশ কাটিয়ে চলে যাচ্ছে শা শা করে। ওর কানের মধ্যে এখন অনুপমের "প্রিয়তমা" গানটার "গীটার" বাজছে।অসাধারণ সুন্দর গানের লিরিকটা।
"চলে এসো আজ এ রাতে,
চলে এসো আমার কাছে...  প্রিয়তমা। "
গানটা প্রথম ওকে কান্তা শুনিয়েছিলো।বলেছিলো, "তুমি এ গানটা শুনলে পাগল হয়ে যাবা! "
সত্যি গানটা ওকে পাগল করে দিয়েছিলো।  পাগল করে দিয়েছে কান্তার প্রেমে।
গান শুনতে শুনতে হঠাৎই স্মৃতির দরজায় বিগত দিনগুলি এসে একে একে জমা হতে শুরু করলো।যেন স্মৃতিরা ওকে ডেকে ডেকে বলছে,"এই নীল,দেখো আজ আমি নীল শাড়ি পড়েছি! "
"এই,আমার একটা ছবি তুলো না, প্লিজ? "
"ওভাবে না,এভাবে । দুজন এক সাথে উঠবো। "
"তোমার গালটাকে খুব মিস করছি।তোমার গালে একটা কামড় দেই? "
নীল স্মৃতির রাজ্যে যেন এক নবাগত সওয়ারী। চোখের পাতায় দিনগুলি ভাসছে ফাস্ট ফরওয়ার্ড মুডে। আর ও মিটিমিটি হাসছে কান্তার পাগলিপনা দেখে! আর এই পাগলির জন্য একটু আধটু কেন, পুরো পাগল হওয়া যায়।
স্মৃতির দরজায় বিগত দিনগুলি একটা একটা করে ভীর করছে।আর কান্তার অশরীরী উপস্থিতি ওর সমস্ত সত্তা জুড়ে।হঠাৎ কান্তা যেন ডেকে উঠলো-
"এই যে দেখো দেখো, সেই পুরোনো রেস্তোরাটা।
মনে আছে,প্রথম যেদিন তোমার সাথে বেড়িয়েছিলাম সেদিন এখানেই খেয়েছিলাম?"
সাথে সাথে গাড়ি ব্রেক করলো। নীলের স্মৃতির রাজ্য অদৃশ্য হয়ে ধরা দিলো বাস্তবতায়। ইতোমধ্যে গাড়ির ভেতরের দু একটা লাইট জ্বালিয়ে দেয়া হয়েছে ।গাড়ির স্পিড ক্রমশ কমে আসছে। নীল একটা হেলে সামনে তাকিয়ে বুঝতে পারলো খাবারের জন্য হোটেল ব্রেক।
কিন্তু কি আশ্চর্য!
সেই হোটেল! হোটেল নূরজাহান,কুমিল্লা। কান্তা শখ করে এটাকে বলত "পুরোনো রেস্তোরা "।আর এই তো এই মাত্র কান্তা ওকে বলেছিলো "দেখো দেখো,সেই পুরোনো রেস্তরাঁ। "
এখনো সে কথা নীলের কানে বাজছে।একটু হেসে জানালা দিয়ে বাহিরে তাকিয়ে মনে মনে বলল,"কান্তা,আই মিস ইউ।আই মিস ইউ সো মাচ।"
২
হোটেল ব্রেক শেষ।গাড়ি ধীরে ধীরে গড়িয়ে হাই ওয়ে তে উঠে টানতে শুরু করলো।  এখন রাত প্রায় দু'টো বাজে।গাড়ি চট্টগ্রাম পৌঁছাতে পৌঁছাতে সকাল প্রায় সাতটা আটটা বেজে যাবে।কান্তা প্রেগন্যান্ট, আর তিন চারদিনের মধ্যে ওদের ঘর আলো করে নতুন অতিথি আসবে। কিন্তু  কি জানি,এই ক্লান্ত-শ্রান্ত,শতত বিধ্বস্ত শরীর দেখে কান্তা কি বলবে! নিশ্চয়ই অভিমানের সুরে বলবে,"খুব কষ্ট হয়েছে না! আই এম সরি, আমার জন্য তোমাকে এতটা কষ্ট করতে হলো।"
কিন্তু কান্তা জানে,নীলের কাছে পৃথিবীর সব কিছু একদিকে আর কান্তা অন্যদিকে। ও সব কিছুকে ছেড়ে তুড়ি মেরে চলে আসতে পারে,কিন্তু কান্তাকে না।ওর জন্য পৃথিবীকে অবলীলায় ছেড়ে দিতে পারে নীল।এতটাই ভালোবাসে কান্তাকে।
কান্তার যেবার টাইফয়েড হয়েছিলো, সেবার প্রায় এক মাস কান্তাকে ছেড়ে কোথাও যায়নি ও।বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের চাকরি। বসের কাছে ছুটি চেয়ে যখন পেলো না তখন অর্ধ লক্ষের উপরের সেলারিকে পায়ে দলে কান্তার পাশে পাশে ছিলো। কান্তা বারবার ওকে বলেছিলো, "চাকরী টা ছেড়ে দিও না,কর।আমি ঠিক হয়ে যাব।"
কিন্তু নীলের একটাই কথা, চাকুরী জীবনে বহু পাবো।কিন্তু তোমাকে পাবো না।আর আমার সামান্য চাকুরীর জন্য তোমাকে কষ্ট দিতে চাইনা।অবশ্য মাস খানেক পর যখন কান্তা সুস্থ হয়ে উঠলো তখন নীল আবার চাকুরীর জন্য চেষ্টা করতে শুরু করলো। মাস না যেতেই আরেকটা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের উচ্চ পদে নিয়োগ পেলো।  শুনেছি,ভাইভা বোর্ডে নাকি ওকে জিজ্ঞেস করেছিলো,আগের চাকুরী টা কেন ছেড়েছে।ও সরাসরি বলেছিলো, "আমার ওয়াইফ অসুস্থ ছিলো তাই ছুটি চেয়েছিলাম । দেয়নি তাই ছেড়ে দিয়েছি । " ভাইভা বোর্ড নীলকে আবার যখন জিজ্ঞাসা করলো, "আপনি কি তবে এ চাকুরীও ছেড়ে দিবেন, যদি আপনাকে ছুটি না দেয়া হয়? "
নীল বলেছিলো, "কান্তার জন্য ওর কাছে অন্য সব কিছু তুচ্ছ ।অন্য কোন কারনে ছুটি না পেলেও তার ওয়াইফ এর অসুস্থতার ব্যাপারে কোন কম্প্রোমাইজ করতে পারবে না। "
তারপর
কোম্পানি ওকে শুধু চাকুরীই দেয়নি বরং কোম্পানির এম ডি সাহেব ও তার ওয়াইফ নিজে এসেছিলেন কান্তার সাথে দেখা করতে।নীল কোম্পানির এমপ্লয়িদের মধ্যে সবচেয়ে স্মার্ট,হ্যান্ডসাম এবং জিনিয়াস হিসেবে ইতোমধ্যে সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। মাসে সোয়া লাখের উপর সেলারি।কোম্পানির নিজস্ব বাসা পেয়েছে নীল। কান্তার বাবু হবে, নীল বারবার বলেছিলো, ঢাকা তেই থাকতে কিংবা ঢাকায় হাসপাতালে ভর্তি করতে।কিন্তু কান্তা রাজি হয়নি।ওর একটাই কথা, প্রথম বাচ্চাটা বাবা-মার বাড়িতে হবে। ও বলে,"আমার বাচ্চা হবে আমার বাবা-মায়ের আশীর্বাদের হাত মাথায় নিয়ে।আমি হাসপাতালে যেতে চাই না।"
নীল অনেক বুঝিয়ে সুঝিয়ে ওকে রাজি করাতে পারেনি।এমনকি এটাও বলেছিলো, "দরকার হলে আব্বা-আম্মাকে ঢাকায় নিয়ে আসি।এত বড় বাসা।আরো দশজন মানুষ থাকলেও কোন সমস্যা নেই।"  কিন্তু কিছুতেই কিছু হলো না। শেষ পর্যন্ত বাধ্য হয়ে কান্তাকে চট্টগ্রাম পাঠানো হলো। এছাড়া নীলের বাবা-মা নেই। দু'জনেই ইহলোক ত্যাগ করেছে বহু আগে তাই কান্তার কথা ও ফেলতেও পারলো না।নিজেও হয়ত এরকম একটা কিছু অনুভব করেছিলো সে। কিন্তু নীল কান্তাকে চট্টগ্রাম পাঠিয়েই যে ক্ষান্ত হয়েছে তা নয়। সেখানে সার্বক্ষণিক একজন নার্স,দু'জন কাজের লোক রেখেছে। প্রতি দুই দিন পর পর একজন এম বি বি এস ডাক্তার এসে কান্তাকে চেক আপ করে যায়। আর বাচ্চার জন্য প্রতি সপ্তাহে সপ্তাহে যেখানে যে খেলনা ভালো লাগে কিনে কিনে নিয়ে যায়,ঢাকার বাসায় জমা করে।
এসব দেখে কান্তা হেসে কুটি কুটি হয়। প্রকাশ্যে বলে,"ওকে কি পেটের মধ্যেই খেলতে দিবা নাকি? "
আর কানে কানে বলে,"শুধু বাবুর জন্য এত কিছু! বাবুর আম্মুর জন্য কই!বাবুর আম্মুর প্রতি ভালবাসা কি কমে গেল না কি।" তারপর হেসে কুটিকুটি হয়।
আজকেও অনেক অনেক খেলনা নিয়ে যাচ্ছে ও।অফিসের কাজে রাজশাহী এসে যেখানে যা দেখেছে কিনেছে।কান্তার জন্য রাজশাহী সিল্ক,বাবুর জন্য কাপড়,খেলনা ইত্যাদি ।
৩
গাড়ি এগিয়ে চলেছে দ্রুত গতিতে। বেশ কিছুক্ষণ আগে ফেনী পার হয়ে চট্টগ্রামের মধ্যে ঢুকে পড়েছে।পাহাড়ের উপর দিয়ে সকালের সূর্য আভা ধীরে ধীরে জানান দিচ্ছে নতুন একটা দিনের শুরুর।আশে পাশের রাস্তাঘাটে ক্রমেই জন যাতায়াত বাড়ছে। আর কিছুক্ষণের মধ্যেই প্রিয় মানুষের কাছে পৌছানোর স্নায়ুবিক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে নীলের সমস্ত দেহে।সারা রাতের ক্লান্তকর জার্নিকে যেন কিছুই মনে হচ্ছে না। চোখের সামনে অনাগত ভবিষ্যৎ এর সুখের কল্পনা। সমস্ত ঘর জুড়ে ছোট দু'খানা পায়ের চঞ্চল ছুটাছুটি, বাবার আদর,বাবুর মুখে প্রথম বাবা ডাক ইত্যাদি কেমন হবে তাই যেন ভেসে চলেছে নীলের কল্পনার আয়নায়।
গাড়ি দ্রুত এগিয়ে চলেছে । আর মিনিট ত্রিশের মধ্যে চট্টগ্রাম পৌছে যাবে।পাশ দিয়ে দ্রুত ছুটে যাচ্ছে সকালের বাস গুলো ঢাকা বা অন্যান্য জায়গার উদ্দেশ্যে।
তারপর হঠাৎই একটা ধাক্কা । একটা আর্তনাদ। তারপর সব শেষ।
সমস্ত ঘর জুড়ে ছোট দু'খানা পায়ের চঞ্চল ছুটাছুটি, বাবার আদর,বাবুর মুখে প্রথম বাবা ডাক সব কিছু সমাধিত হলো একটা আর্তনাদে ।ভবিষ্যৎ থমকে গেলো পিচ ঢালা পথের পাশে ছিটকে পড়া নিথর দেহে।।
তারপর.... ।
এর আর কোন পর নেই।
#নীলকান্ত®
  • ১০:৫১:০০ PM
এই শোন,
জেগে থেকো  । গভীর রাতে আসবো আমি কবিতা হয়ে।
হৃৎপিন্ডে হাতটা ধুয়ে বন্য কোন শব্দ হয়ে।
জেগে থেকো,
শব্দ পোড়া শবাসনে, শূন্য বুকের তৃষ্ণা নিয়ে।
গভীর রাতে আসবো দেখো,
ধ্রুপদী এক কবিতা হয়ে।।

বুধবার, ৭ অক্টোবর, ২০১৫

  • ১১:২৬:০০ AM
দেশের নাগরিককে সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে এবং দেশকে প্রকৃত অর্থে উন্নত করতে প্রত্যেক নাগরিককে প্রয়োজনীয় আইন শিক্ষায় শিক্ষিত করে তোলা সবার আগে দরকার।
-----------------------+-----
প্রশ্ন হলোঃ
→
আমরা আমাদের অধিকার সম্পর্কে কি সম্পূর্নভাবে সচেতন?
→
আমরা কি আমাদের রাজনৈতিক ও আইনি অধিকার সম্পর্কে ভালভাবে জানি?
উত্তরঃ
জানি না/আংশিক জানি/তেমন কিছু জানিনা
তাহলে,
★
আমরা পদে পদে বিভিন্ন পরিস্থিতি তে হয়রানির শিকার কেন হই?
★
সরকারি কিংবা বেসরকারি বিভিন্ন দপ্তর দূর্নীতি করার সুযোগ পাচ্ছে কিভাবে?
★
রাজনৈতিক ব্যক্তিদের দৌরাত্ম্য বেড়েই চলছে কেন?
উত্তরঃ
কি জানি? /বলতে পারবো না কিংবা এটা,ওটা,সেটা
কিন্তু আসলে একটু গভীর ভাবে ভেবে দেখলে বুঝতে পারবেন, এ সমস্ত প্রশ্নের উত্তর একটা কথাতে লুকিয়ে আছে।আর তা হলোঃ "জনসাধারণ আইন সম্পর্কে সচেতন না এবং তারা আইন জানেন না। "
অর্থ্যাৎ জনগণ যদি আইন সম্পর্কে যথাযথ ওয়াকিবহাল হোন তবে এসকল সমস্যাগুলো হত না কিংবা হলেও তা মোকাবেলা করা যেত।
প্রশ্ন জাগতে পারে, কিভাবে?
উদাহরণ সরূপঃ
আপনি একজন নিরপরাধ ব্যক্তি।রাস্তা দিয়ে হেটে যাচ্ছেন। এমন সময় কোন কারন ছাড়াই একজন পুলিশ কর্মকর্তা আপনাকে ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায়(বিনা পরোয়ানায় গ্রেফতার) আটক করতে পারে।
পুলিশ কর্মকর্তার আটক করার অস্ত্র হলো তার উপর ন্যস্ত করা আইনি ক্ষমতা।যেখানে আপনাকে সন্দেহের বসে আটক করতেই পারে।(যদিও এ বিষয়ে সুস্পষ্ট নয়টি কারন উল্লেখ করা আছে।যেসব পরিস্থিতির উপর ভিত্তি করে একজন পুলিশ অফিসার ক্ষমতাপ্রাপ্ত হোন।)
কিন্তু সে সময় আপনার কি করণীয় আছে কিংবা আপনার কতটুকু আইনি অধিকার রয়েছে তা সম্পর্কে আপনি সচেতন না হলে বোকার মত চেয়ে দেখা ছাড়া আর কোন উপায় থাকবে না।
তিনি আপনাকে গ্রেফতার করার মত কোন কারন হয়ত পেলেন না কিন্তু আপনি হয়রানির শিকার হবেন।যদি এই হয়রানির শিকার যদি হতে না চাই তবে অন্তত নিজের আইনি অধিকার জানা আবশ্যক।
আচ্ছা,সে বিষয় না হয় গেলো।এবার ধরুন, আপনাকে মামুলি কোন  অপরাধে আটক করে মেজেস্ট্রেটের কাছে নেয়া হলো।সেক্ষেত্রে একজন ৩য় শ্রেনীর একজন মেজেস্ট্রেট আপনাকে ৫ বছরের জেল অথবা দুই লক্ষ টাকা জরিমানা করলেন।আপনিও বিনা দ্বিধায় পাঁচ বছরের জেলের পরিবর্তে দুই লাখ টাকা দেয়া শ্রেয় মনে করে টাকাই দিলেন।কিন্তু আপনি এটা জানলেন না যে, একজন তৃতীয় শ্রেনীর মেজেস্ট্রেটের  দুই বছরের অধিক কারাদণ্ড দেয়ার এখতিয়ার নেই কিংবা দুই হাজার টাকার বেশি জরিমানা করবার।
এক্ষেত্রে যা হলো তা, মেজেস্ট্রেটের ভয়ে আপনি তাকে দূর্নীতি করতে সহায়তা করলেন। (এটা শুধুমাত্র উদাহরণ। আমি বলছি না যে,মেজেস্ট্রেটগণ কোন দূর্নীতি করেন।)কিন্তু আপনি যদি আইন এবং অধিকার সম্পর্কে সচেতন হতেন তবে আপনাকে অবশ্যই এরকম পরিস্থিতিতে পড়তে হত না।
আর আইনের ধারা এবং দন্ড সম্পর্কে সচেতন কোন নাগরিক সহজে কোন অপরাধ করতে সাহসও পাবেন না। কারন তিনি জানেন এই অপরাধের জন্য কি শাস্তি হতে পারে!
উদাহরণ শেষ। এবার মূল প্রসঙ্গে দুটি কথা বলি।
আমার লিখার প্রধান বিষয় ছিলো,
" দেশের নাগরিককে সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে এবং দেশকে প্রকৃত অর্থে উন্নত করতে প্রত্যেক নাগরিককে প্রয়োজনীয় আইন শিক্ষায় শিক্ষিত করে তোলা সবার আগে দরকার।"
উপরের উদাহরণ থেকে আশা করি কিছুটা হলেও বুঝতে পেরেছেন সেটা কিভাবে সম্ভব!
এবার কথা হলো,হুম।দেশের নাগরিকদের আইন সম্পর্কে সচেতন করতে কি করা উচিত? কিংবা কিভাবে এটা করা যাবে?
উত্তরটা হচ্ছে,আইন শিক্ষা বাধ্যতামূলক করার মাধ্যমে।
কিন্তু যেহেতু আইন পরিবর্তনশীল এবং এটি সময় এবং পরিস্থিতি অনুযায়ী পরিবর্তিত হতে পারে তাই এই শিক্ষার প্রক্রিয়া শুরু করা উচিত প্রাথমিক শিক্ষা থেকেই।
প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একটা নির্দিষ্ট শ্রেনী(৪র্থ বা ৫ম শ্রেনী) হতে আইন বিষয়টি পাঠ্য পুস্তকের অন্তর্ভুক্ত করা উচিত এবং কমপক্ষে এইচ এস সি পর্যন্ত আইন বিষয় বাধ্যতামূলক পড়তে হবে। এই সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় আইন সমূহ সকলেই জানবে। ফলে আইনের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ জাগার সাথে সাথে নিজের আইনি অধিকার সম্পর্কে সচেতন হতে পারবে।কেউ কোন ভাবে দূর্নীতি করতে গেলে তার বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে পারবে এবং যুগ যুগ ধরে সাধারণ মানুষ বিভিন্ন দপ্তর দ্বারা যেভাবে হয়রানির শিকার হচ্ছে তা হতে মুক্তি লাভ করবে।
কিন্তু
এইচ এস সি'র পরে যেহেতু আইন বিষয়ে আলাদা ভাবে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর করা যায় তাই এ সময় বাধ্যতামূলক আইন পাঠ্য বিষয় জরুরী নয়।
সর্বশেষ কথাঃ
" জনগণ আইন সম্পর্কে সচেতন হলে দেশের দূর্নীতি প্রতিরোধ এবং নিজেদের অধিকার আদায় করা সম্ভব। আর দূর্নীতি প্রতিরোধ করা গেলে দেশও উন্নতি লাভ করবে এবং  দেশের সাংস্কৃতিক উন্নয়ন সাধিত হবে।"
-নীলকান্ত ®ব্লগ

রবিবার, ৪ অক্টোবর, ২০১৫

  • ১১:০০:০০ PM
রক্তজবা -২
যেদিন রক্তজবা আর মিনারের গল্প লিখেছিলাম, সেদিন
তুমি বলেছিলে, "কখনো কি তুমি মানুষ হবা না? "
তারপর -
অনেকটা দিন কেটে গেছে!
রক্তজবার পাপড়িগুলো গোলাপি থেকে ধূসর হয়েছে,
মিনারের গায়ে যে শুভ্র ফুল ফুটেছিলো,
তাও ঝড়ে পড়েছে একটা একটা করে।
নুইয়ে পড়েছে,
শিরা-উপশিরা টানটান করে থাকা সাধের মিনার!
চামড়ার ভাঁজে ভাঁজে শুকিয়ে  কুঁকড়ে গেছে-
চুপসে থাকা সিক্ত গহ্বর!
রক্তজবার গোড়ায় ঘন ঘাস জেগেছে,
মিনারের দেয়াল বেয়ে একে বেঁকে
ছেয়ে গেছে জঞ্জালে!
দেখ,
আজ আমি কিন্তু মানুষ হয়েছি!
আর দশটা মানুষের মত।
তবুও যেন মানুষের মত না,
ভীষণ খরায় আগের মত তোমায় খুঁজি না,
রাত-বিরোতে রক্তজবার
গল্পও লিখি না।
নুইয়ে পড়া মিনারের গায়ে, শুভ্র ফুল ফোটে বটে,
কিন্তু-
তাতে গন্ধ থাকে কই!
বাগান ছাড়া মালী আমি-
বাগান মালিক নই!
#নীলকান্ত ®
  • ৭:২১:০০ PM
দূর্নীতিগ্রস্ত রাজনৈতিক ব্যক্তি দ্বারা দূর্নীতিমুক্ত প্রশাসন আশা করা যায় না।
প্রশাসনকে দূর্নীতিমুক্ত করতে সরকার এ পদক্ষেপ, সে পদক্ষেপ, অমুকের বেতন বাড়ানো, তমুকের জন্য ওমুক আইন ইত্যাদি পেশ করে,পাশ করে কিংবা জারি করে ততক্ষণ পর্যন্ত সফল হবেন না,যতক্ষন পর্যন্ত তার রাজনৈতিক কর্তাব্যক্তিদের দূর্নীতিমুক্ত করতে পারছেন।
একটু গভীর ভাবে খেয়াল করে দেখুন, দেশে যত প্রকাশ্য কিংবা অপ্রকাশ্য দূর্নীতি হচ্ছে তা কোন না কোনভাবে রাজনৈতিক ছত্রছায়ায়।প্রশাসন যখন রাজনৈতিকদের ক্রীড়ানকে পরিনত হন তখন স্বতন্ত্রভাবে প্রশাসনকে দূর্নীতিগ্রস্ত বলা যায় না,উচিতও না।
উদাহরণ সরূপঃ
ধরুন, প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ করা হবে।সার্কুলার দেয়া হলো।প্রার্থীগণ আবেদনও করলেন।এবার শুরু হলো ধরাধরি!
x  নামে ক্যান্ডিডেট  y নামে এক মন্ত্রীর সুপারিশ ধারী। " x" ব্যক্তি "y" এর সুপারিশ পাওয়ার জন্য " z" নামে একজন এমপি কিংবা স্থানীয় নেতার আশ্রয় নিলেন । z চাকুরী পাইয়ে দেবে বলে x কে প্রতিশ্রুতি দিলেন এবং সেই মোতাবেক y এর নিকট উপস্থাপন করলেন।y সাফ জানিয়ে দিলো, x এর চাকুরীর জন্য a পরিমান অর্থ লাগবে।এবার z এসে x কে a+1  পরিমাণ অর্থের চাহিদা দিলেন। x তাতে রাজিও হলেন।
এবার যা হলো, x পরীক্ষার হলে গেলেন পরীক্ষায় অংশ নিতে।z এর লোকজন ইতোমধ্যে পরীক্ষার হল পরিদর্শক এবং অন্যান্যদের এটা বুঝালেন যে,তারা কারা! হল পরিদর্শক নিরুপায়। কারন তার ক্ষমতা z এর নিকট পাঁচ বছরের জন্য পানি পান্তা। y এর কথা বাদই দিলাম।সুতরাং যা হবার হচ্ছে!
কি কি হতে পারে?
* z প্রশ্নপত্রের কপি বাহিরে এনে সলভ করে x কে সরবরাহ করতে পারে।
* z পরীক্ষা শুরু হওয়ার পূর্বেই প্রভাব খাটিয়ে প্রশ্নপত্র ফাঁস করাতে পারে।
* এমনকি x কে z এটাও বলতে পারে যে,সাদা খাতা জমা দিয়ে আসতে।
* z, x এর সাদা ওএমআর পরীক্ষা শেষে পূরন করেও দিতে পারে।
* এমনকি x পরীক্ষার খাতায় যা কিছু লিখুক না  কেন z উক্তীর্ণদের তালিকায় x এর নাম নিয়ে আসতে পারে।
(এগুলো চোখের সামনে দেখা।তাই বিরোধিতা করে লাভ নাই। এমনকি সেটা অনেকেই জানেনও।বিদ্র. ব্যতিক্রম হতেই পারে।)
এবার পরের স্টেজ । ভাইভা পরীক্ষা।
z এর অনুরোধে y ভাইভা বোর্ড নিয়ন্ত্রণ কারীকে x এর জন্য সরাসরি ফোন দিতে পারেন। (২০০৯ সালে পাবনা পুলিশ লাইনে,পুলিশ কনস্টেবল নিয়োগে পুলিশ সুপার #জনাব মাঝি  এমনি এক নেতার অনুরোধ রাখতে না পারায় তাকে বদলি করা হয় সাত দিনের মাথায়।এমনকি স্থানীয় ওই নেতার লোকজন এসে এক্সাম পেপার ছিঁড়ে ফেলেন। নিজের চোখে দেখা। )
এমতাবস্থায়, নিয়ন্ত্রক অসহায়। বাধ্য হয়ে তিনি সব মেনে নিলেন।
(আমি শুধু মাত্র একটা দিকের একটা  উদাহরণ টানলাম, প্রশাসনের প্রায় সকল ক্ষেত্রে এরকম অজস্র দূর্নীতির মূল হোতা নেতারা।)
এখন কথা হলো,
প্রশাসন যদি চায়ও যে তারা স্বচ্ছভাবে তাদের দায়িত্ব পালন করবেন।তাহলেও তারা তা করতে পারেন না রাজনৈতিক প্রভাবের কারনে।
অপরাপর, তাদেরকেও রাজনৈতিক কর্তাব্যক্তিদের দূর্নীতির সাগরেদ হতে হয়।
কিন্তু দোষের ভাগিদার শুধু হোন তারাই।
তাই যতক্ষণ প্রশাসনকে নিজের মত চলতে দেয়া হবে না,এবং প্রশাসনের উপর রাজনৈতিক হর্তাকর্তাদের অবৈধ হস্তক্ষেপ বন্ধ করা হবে না,ততক্ষণ পর্যন্ত দূর্নীতিমুক্ত প্রশাসন আশা করা যাবে না।
তাহলে, নেতা খ্যাতারা কি করবে? তাদের হাতে তো কোন কাজই থাকলো না?
সাধারণ জনগণ নেতাদের নেতা নির্বাচন করেন তাদের মঙ্গলের জন্য।নেতাদের উচিত জনস্বার্থে কাজ করে যাওয়া।কোথায় জনগনের কি প্রয়োজন তা লক্ষ্য রাখা এবং সেই মোতাবেক স্বচ্ছভাবে সে কাজ সম্পন্ন করা।
শুধু এসি রুমে বসে বসে দূর্নীতির পরিকল্পনা আর মঞ্চে উঠে বড় বড় বক্তৃতা দেয়া নয়!
Writer information NILKANTO