:::: MENU ::::
  • slider image 1

    Take my hand, take my whole life too.

  • slider image 2

    I never want to live without you

  • slider image 3

    I am who I am because of you.

বুধবার, ১৭ জুন, ২০১৫

  • ১:০১:০০ PM
haunted palace photo
Haunted House: Photo collected 

মতি চোরা ও ডাইনির গল্পঃ

অনেক দিন আগের কথা। কাঞ্চিপুরের শেষ সীমানায় থাকতো মতি চোরা।তার নাম ডাক আর চুরির গল্প সাত গাঁয়ের মধ্যে  সবসময় মানুষের মুখে মুখে ঘুরতো। কিন্তু কেউই কোনদিন তাকে দেখে নি।সবাই এর ওর কাছে গল্প শুনেছে মাত্র, কিংবা কোন ভাবে যারা ভুক্তভোগী , শুধু তারাই জানে মতি চোরা কি!
হয়ত ভাবছেন,কেউ যখন মতি চোরাকে দেখেনি, তাহলে সেই যে চুরি  করেছে তা নিশ্চিত হলো কিভাবে, তাই না?
হা হা হা।  এই মতি চোরা ছিলো আর বাকি দশটা চোরের চেয়ে একদম আলাদা। ইদানীং আপনারা যে ধুম-২ হিন্দি সিনেমা দেখেন, সেই সিনেমায় হৃত্তিক যেমন চিহ্ন রেখে যেত, তেমনি মতি চোরারও একটা বিশেষ চিহ্ন ছিলো। সে যে বাড়িতে চুড়ি করত, সে বাড়ির দেয়ালে কিংবা অন্য কোন জায়গায় "মতিগতি" কথাটা লিখে রাখতো।তাতে অবশ্য বুঝা যায়,মতি চোরা ছিলো শিক্ষিত এক চোর। আর তার চুরির শিকার হত গ্রামের বড় বড় সম্পদশালী লোকগুলাই।
মতি চোরা নিজের চুরির দক্ষতা নিয়ে মনে মনে বেশ গর্ব বোধ করতো।আর তাই সে তার চুরির পর সরাসরি নিজের নাম লিখে দিয়ে আসতো সদর্পে!  অনেক পুলিশ,দাড়োয়ান,চৌকিদার দিয়েও তাকে ধরা যায় নি।আর ধরা যাবেই বা কি করে! তাকে যে কেউ কোনদিন দেখেই নি!!  আর এই চোরের বাড়ি কই? কখন চুরি করে? কিভাবে করে তা বলা খুব মুশকিল।
যাই হোক,
বেশ কয়েক বছরের তার নাম ডাক বেশ হয়েছে।সারা কাঞ্চিপুর, বৌভিটা,চুমিনগর আর ফতেহপুরের সকল লোক মতি চোরার চুরিতে অতিষ্ট হয়ে গেছে। এমনকি তাকে ধরিয়ে দিতে কিংবা সন্ধান দিতে পারলে ২০০০০ টাকা নগদ পুরস্কার ঘোষনা করেছে কয়েক গ্রামের চেয়ারম্যানরা।কিন্তু কিছুতেই তাকে ধরা যায় না!! বরং মতি চোরার চুরির ঘটনা দিনদিন বেড়েই চলছে,বৈ কমছে না।
এভাবে মতি চোরার পোয়া বারো, আর এলাকা বাসীর সর্বনাশ। কিন্তু কথায় আছে, "চোরের দশ দিন আর গৃহেস্তের একদিন।"হলোও তাই।
তাহলে ঘটনা টা বলি,
তখন মাঘ মাস চলছে।চারিদিকে কুয়াশা আর ঘুটঘুটে অন্ধকার। মতি চোরা আজ বৌভিটার উত্তর সীমানায় ফেঞ্চুর বন নামে এক জঙ্গলে যাচ্ছে।ওখানে কয়েকদিন ধরে এক রাজাবাড়ির সন্ধ্যান পেয়েছে সে! রাজ বাড়ি ঠিক রাজবাড়ি না। আসলে সেটা দেখলে মনে হবে যেন বনের মধ্যে কেউ অবকাশ যাপনের জন্য সুন্দর একটা প্রাসাদ তৈরি করে রেখেছে।প্রথম প্রথম এই বাড়িটা দেখে সে অবাকই হয়েছিলো। এমন একটা বাড়ি জঙ্গলের মধ্যে আছে,তা সে ভাবতেই অবাক!
আর সেদিনই তার চোরা মন এই রাজপ্রাসাদ চুরি করার জন্য অস্থির হয়ে আছে।আর তাই প্রায় সাতদিন ধরে  সে এ বাড়ির উপর নজর রেখেছে।বাড়িতে খুব বেশি মানুষ যে থাকে না,তা এর নীরবতা দেখলেই বুঝা যায়।কিন্তু আশ্চার্য ভাবে প্রাসাদের সামনের বাগান,ঘর গুলো এমনকি মেইন গেট থেকে ভেতরে ঢোকার রাস্তা টাও ঝকঝক করছে।তার মানে লোকজন তো থাকেই এখানে। কিন্তু কেন জানি কোন সারা শব্দ পাওয়া যায় না।কোথাও কোন পিন পতনের শব্দও নাই।
শুধু রাত্রে বেলা ঝিঝিপোকা আর দূরে কোথাও হতে খেঁকশিয়ালের ডাক শোনা যায় মাঝে মাঝে।আজকেও শোনা যাচ্ছে।কিন্তু মতি চোরার কন্সেন্ট্রেশন এখন প্রাসাদের দিকে।গেটের বাইরের এক কড়ই গাছের উপর উঠে প্রাসাদের মানুষজনের গতিবিধি লক্ষ্য করছে।দোতালার টানা বারান্দা দিয়ে দুইটা হারিকেন হাতে দুজন মানুষ পুব দিক থেকে পশ্চিম দিকের একটা ঘরে ঢুকলো।তার কিছুক্ষন পর একজন বেড়িয়ে এসে নীচতলায় নেমে ঢুকলো প্রথম ঘরটায়।
কুয়াশা আর অন্ধকার হলেও এই কয়েক দিন ধরে প্রাসাদে নজর রাখায় এ সব কিছু সে সহজেই বুঝতে পারলো। কিন্তু সমস্যা হলো, এখনো মানুষ জেগে আছে।অতএব চুরি করার সময় এখনো আসেনি।আরেকটু অপেক্ষা করতে হবে।
গাছের ডালে বসে মশার সাথে অতি কষ্টে যুদ্ধ করে ঘন্টা দুই কেটে গেলো।ইতোমধ্যে যেসব ঘরে আলো জ্বলছিলো,তা নিভে গেছে।তাছাড়া কুয়াশাও বেড়ে গেছে।আর বাহিরে গাছের উপর বসে থাকতে থাকতে মতি চোরা ঠান্ডায় প্রায় জমে যাচ্ছিলো।কিন্তু যত যাই হোক,মতি চোরা সহজে হারবার পাত্র না।চুরি সে করবেই।
সে ধীরে ধীরে গাছ থেকে নীচে নেমে এলো।তারপর হামাগুড়ি দিয়ে প্রাচীরের প্রধান ফটকে আসতেই মাথার উপর দিয়ে সাৎ করে একটা কিছু উড়ে গেলো। আকষ্মিক একটু ভয় পেলেও ঠিক পাত্তা দিলো না। তার সকল মনযোগ এখন প্রাসাদের ভিতরে ঢোকার। চারপাশে একটু দেখে নিয়ে ধীরে ধীরে প্রাচীর সংলগ্ন একটা আমগাছের সাহায্যে প্রাচীর পার হলো। গেটের উপর দিয়েও পার হওয়া যেত,কিন্তু তার চেয়ে আম গাছটাই বেশি নিরাপদ মনে হলো তার কাছে। প্রাচীর পার হয়ে আবার হামাগুড়ি দিয়ে, কখনো বুকে ভর দিয়ে প্রাসাদের পূর্ব পাশের সিড়িটার কাছে চলে এসেছে সে।
এবার সে পেছনে ফিরে একটু তাকালো,তারপর যা দেখলো তাতে তার চোখ চড়কগাছে!!  মেইন গেট থেকে শুরু করে সারা বাগানের মধ্যে কোথাও কোথাও ক্ষীন আলো জ্বলছে।আর বেশ কয়েকজন পাইক-পেয়াদা তরবারি আর বল্লম হাতে ঘুরে বেড়াচ্ছে।যেন ঠিক আগেকার দিনের রাজা-বাদশাহদের রাজ প্রাসাদে যেভাবে সৈন্য সামন্ত পাহারা দিত,ঠিক তেমনি ভাবে।
সে মনে মনে ভাবলো,কি ব্যাপার,এরা কোথা থেকে এলো ? দেয়াল পার হওয়ার সময়েও তো কেউ ছিলো না।এমনকি যখন সে বাগানের মধ্য দিয়ে হামাগুড়ি দিয়ে আসছিলো তখনো তো কাউকে দেখা গেলো না।তাহলে??
হঠাৎ করেই যেন সাহসী মতি চোর ভয়ে চুপসে গেলো।গা-মাথা বেশ ভারী ভারী হয়ে এলো।
যে আশা নিয়ে চুরি করতে এসেছিলো তা ভয়ের সাথে মিশে রাজপ্রাসাদের সিড়িটার কাছে ঠকঠক করে কাঁপছে।  কি করবে ঠিক মাথায় আসছে না।তারউপর শেয়াল গুলো আরো জোরে জোরে ডাকছে।মনে হচ্ছে খুব কাছে কোথাও।কিন্তু দেখা যাচ্ছে না।হঠাৎ করে একটা চাপা কান্নার আওয়াজ কানে এলো। কেউ যেন ফুফিয়ে ফুফিয়ে কাঁদছে।
কান্নার আওয়াজ শুনে তার ভয় কোথায় যেন হারিয়ে গেল।কিন্তু কান্নাটা কোথা থেকে আসছে তা দেখার কৌতুহলে সে দুই একবার এদিক সেদিক তাকালো। কিন্তু ঠিক বুঝে ঊঠতে পারলো না।।
  ।
একটু সাহস নিয়ে সে সিড়ি দিয়ে দোতলায় উঠে এলো।হ্যা,আওয়াজ টা এবার স্পষ্ট শোনা যাচ্ছে। একটা মেয়েলী কান্না।কিন্তু কান্নার শব্দটা বেশ মায়াবী। ধীর পায়ে একটু একটু করে সামনে এগুচ্ছে সে।যতই সামনে এগুচ্ছে ততই স্পষ্ট হচ্ছে কান্নার আওয়াজ।
কিন্তু একি?
এবার মনে হচ্ছে, একটি না, দুটি কান্নার আওয়াজ।মতি চোরা একটু কানটা কনিষ্ঠ আঙুল দিয়ে চুলকে নিলো। নাহ, সে ঠিকই শুনেছে।দুইটা মেয়ে একসাথে কান্না করছে। একই ভাবে।
মতির গা ছমছম করে উঠলো। এবার সে দু'পা আগায় তো এক পা পিছায়।তারপর যে ঘর থেকে কান্নার শব্দ আসছে,সেই ঘরের সামনে চলে এলো।
ঘরের দরজাটা ভিরানো।দুই কপাটের মাঝের ফাক দিয়ে ভেতরটা বেশ দেখা যাচ্ছে। দু'জন বসে আছে। দুই জনই মেয়ে। দুজনের সামনে একটা হারিকেন জ্বলছে মিটি মিটি। আর হারিকেন কে সামনে রেখে আশ্চার্য সুরে কান্না করছে দু'জন।
মতি চোরা সাবধানে দাড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখছে সব।হঠাৎ একটা মেয়ে উঠে দাড়ালো,তারপর একটা বাচ্চাকে কোলে নিয়ে আবার নিজের আসনে বসল। এবার আরেকজনের হাতে বড় ছুরি হারিকেনের আলোতে ঝকঝক করে উঠলো। তারপর বাচ্চাটাকে মাঝখানে শুইয়ে দিয়ে ছুরি দিয়ে গলা কেটে ফেললো ঐ মহিলাটা।
এসব দেখে মতি চোরা ভয়ে জড়োসর হয়ে জোরে করে এক চিৎকার দিয়ে পেছন দিকে দৌড়াতে শুরু করলো। যখন প্রায় সিড়ির কাছাকাছি চলে এসেছে তখন দেখা গেলো মাথাহীন একটা ধর উপরে উঠে আসছে।তাই দেখে মতি চোরার প্রান যায় যায় ভাব।
এদিকে পেছন দিক থেকে ওই ডাইনি মহিলা দু'জন  প্রায় কাছে এসে গেছে।
সামনে পেছনে কোথাও যাবার যায়গা নেই। ডাইনি মহিলা হাসতে হাসতে এগিয়ে আসছে। একজন আরেকজন কে বলছে,
"আজ আরেকটা পেয়েছি  । আজকের খাবারটা ভালোই হবে ।"
বলেই দু'জনে এক সাথে মতি চোরকে জাপটে ধরতে গেলো।আর সঙ্গে সঙ্গে ভয়ে অজ্ঞান হয়ে গেলো মতি চোরা।।
তারপর কি হয়েছে আর মনে নেই।যখন মতি চোরার জ্ঞান ফিরলো,তখন সে নিজেকে জঙ্গলের মধ্যে এক ফাঁকা জায়গায় আবিস্কার করলো।কোথায় সে প্রাসাদ? নাহ, কিচ্ছু নাই।
তারপর....
তারপর আর কোন দিন সে রাতের বেলায় বাহিরে যেত না।চুরি তো দূরের কথা!
Nilkanto( নীলকান্ত)
Nilkanto( নীলকান্ত)

সোমবার, ১৫ জুন, ২০১৫

  • ২:০২:০০ AM

--------------
ছেলেটার সর্বশেষ স্ট্যাটাস ছিলো
"ফ্রেন্ডস,
আজ থেকে আর আমি কখনো এফবি তে আসবো না।
বিদায় all...
মিস ইউ অল।
ভালো থেকো সবাই।
আসি...."
তারপর একটা বিকেল কিংবা সন্ধ্যা এলো।একটা প্রাণ হতাশার অনলে দগ্ধ হয়ে পৃথীবি ছাড়লো।
এরপর সব শেষ!  একটা নাম মুছে গেলো পৃথীবির জীবিত মানুষের তালিকা থেকে।
শেষ শব্দে যে আসার প্রতিশ্রুতি ছিলো, সে আসা আর কখনো হলোই না।
এবার আসি  কেন,কি কারনে তার এই আত্নহনন  সে বিষয়ে।
ছেলেটার ফেসবুক টাইমলাইনের প্রথমেই বেশ কয়েকটা ছবি।তার মধ্যে হতাশাগ্রস্ততা, বিধ্বস্ততা আর মলিনতার সুস্পষ্ট ছাপ।
পরপর বেশ কিছু স্ট্যাটাসে মায়ের প্রতি তীব্র অভিমান। কোন এক কারনে কিংবা অকারনে "মায়ের কাছে তার অধিকার খর্ব। মা'কে মা ডাকার অধিকার হতে বঞ্চিত হওয়ার তীব্র অভিমান।"
কোথাও আবার মায়ের বিরুপ আচরন তার মনে রেখাপাত করেছে বেশ গভীর ভাবে।তার ভাষায়,
"মা যদি তার প্রতিবন্ধী শিশুটিকে বোঝা মনে করে,তাহলে সেই শিশুটির মত অসহায় আর কেউ না।"
আমি জানি না কেন সে একথা লিখেছিলো। এমনকি এও জানিনা সে নিজেই সেই শিশুটি কিনা।
অতঃপর তার ভাষায় সে ছোট বেলা থেকে পারিবারিক অনাদর-অবহেলায় বড় হয়েছে।এবং যখন সে সব কিছু বুঝতে শিখেছে,বড় হয়েছে, তখনো তার সাথে ঠিক একই আচরন করা হয়েছে।
"এভাবে সে কিভাবে বাঁচতে পারে? "
ছেলেটির এই এক প্রশ্ন ছিলো সেখানে।
টাইমলাইনের আরো গভীরে গেলে তার হতাশার আরো কিছু দৃশ্য চোখে পড়ে তার লেখায়।যখন সে চাকুরী ছেড়ে দিয়ে দ্বিধাগ্রস্ত যে, সে কি করবে।এমনকি নিজের অতি আপনার স্থান, "মায়ের কোল" সেখানেও ফিরে যাবার সাহস পাচ্ছে না,বারবার সে ভীত হচ্ছে। আর হওয়াটাই এখানে বোধহয় স্বাভাবিক ছিলো, যদি পূর্বোল্লিখিত কথাগুলো সত্য হয়। এবং সে কথা গুলো অবশ্যই সত্য ছিলো, কারন "মানুষ মৃত্যুর আগে চাইলেও মিথ্যা বলতে পারে না।"
আত্মহত্যার কারণ মোটামুটি পরিস্কার।
কিন্তু এটাই কি সর্বশ্রেষ্ঠ পন্থা ছিলো,  নিজেকে সেই অনাদর-অবহেলা,হতাশা থেকে মুক্তি করার?
না, কখনোই না।
আজ ছেলেটি পৃথীবিতে নেই।তার খুব কাছের যে ক'জন মানুষ ছিলো, তারা হয়ত আর দু'দিনের মধ্যে সব ভুলে যাবে।
যার বা যাদের জন্য ছেলেটি আত্মহননের পথ বেছে নিয়েছে,সে বা তারাও সব ভুলে যাবে। এই সুন্দর পৃথীবিতে তারা ঠিকই সুখের সাথে বসবাস করবে।
কিন্তু যে অবহেলা-অনাদরের জন্য ছেলেটি আত্মহত্যা করলো সেই অবহেলা অনাদরের কি কোন পরিবর্তন হবে? হবে না।
কিংবা নিজের বা নিজেদের ভুল বুঝতে পেরে কি কেউ ছেলেটির জন্য সারা জীবন কাঁদবে?  না,কাঁদবে না।
কিংবা নিজের ভুলের কথা ভেবে কেউ ছেলেটির মত স্বেচ্ছা মৃত্যুও গ্রহন করবে না।
তাহলে তার এই আত্মহত্যার কোন মূল্যই কারো কাছে নেই।এবং থাকেও না।
যে আত্মহত্যা করলো,সে নিজের কাছেই  নিজেই হেরে গেলো এবং হেরে গেলো বাকি পৃথীবির কাছে।
##
আমি যে ছেলেটির কথা বললাম, ওর নাম #আকাশ রোজারিও, বাড়ি পাবনা জেলার চাটমোহর উপজেলার উথুলি নামক গ্রামে।যে অত্যন্ত অভিমান আর হতাশা নিয়ে গত কাল পৃথীবি ছেড়েছে।
#আকাশ,
যদি আমার সাথে তোমার পরিচয় থাকতো, তবে আমি কখনোই তোমাকে অকালে ঝরে যেতে দিতাম না।
তোমার কাছে আরো অনেক পথ খোলা ছিলো। কিন্তু তুমি সঠিক ডিরেকশনটা সঠিক সময়ে পাওনি। এটাই সবচেয়ে বেদনাদায়ক। বেদনাদায়ক তোমার মৃত্যু।
##
তাই আত্মহত্যা কোন সমাধান হতে পারে না।বরং প্রতিকূলতা কে টেক্কা দিয়ে সামনে এগিয়ে যেতে হবে। যদি সকলের মত উচু দরের না হতে পারেন সমস্যা নেই।নিজের নিম্ন দর নিয়ে খুশি থাকেন। আর উচু দরে উঠার জন্য চেষ্টা করতে থাকুন।
মনে রাখবেন, জীবন একটাই।এর কোন ডেমো ভার্সন অথবা এক্সট্রা ভার্সন পাবেন না। জীবনের মূল্য টা বুঝুন।আর আত্মহত্যার মত কোন বাজে চিন্তা মাথায় এলে অবশ্যই ঝেরে ফেলুন।
"Remain calm when a storm hits your life and remember, the sun never too far away."

শনিবার, ৩০ মে, ২০১৫

  • ১:১২:০০ PM
আলোচনা ও সমালোচনাঃ

বাংলা ভাষায় এ দু'টি শব্দ বেশ জনপ্রিয় । এবং প্রায় কথায় কথায় এই শব্দ দু'টি আমরা ব্যবহার করে থাকি।
কিন্তু শব্দ দু'টির ব্যবহারের আগে এর অর্থ এবং সংগাটা জেনে নেয়া দরকার। তাছাড়া শব্দ দু'টি কিভাবে প্রভাব বিস্তার করে তাও জেনে নেই, কি বলেন?
(বি দ্র. বিভিন্ন জনের সঙ্গার মধ্যে কিছুটা  তারতম্য থাকতে পারে।)
#১
আলোচনাঃ
"আলোচনার" ইংরেজি প্রতিশব্দ "Discussion"। ইংরেজিতে Discussion বলতে বুঝায়, "Conversation or debate concerning a particular topic" অথবা বলা যায়, "A text giving further details on a subject."
বাংলায় এর অর্থ করলে দাড়ায়, " কোন নির্দিষ্ট বিষয়ের উপর বিশদ কথোপকথন অথবা বিতর্ক"।
অর্থ্যাৎ "আলোচনা" শব্দটির সঙ্গা দিলে এভাবে দেয়া যেতে পারে," কোন নির্দিষ্ট বিষয়ের উপর  ইতিবাচক কথোপকথন যা ঐ বিষয়ের বিশদ তথ্য উপস্থাপন করে এবং বিষয়ের পক্ষে ও বিপক্ষে মত প্রকাশ করে।"
উৎসঃ বাঙালি ও বাংলা, Article
আচ্ছা, আলোচনা শব্দটি সম্পর্কে একটা ধারনা হলো , এবার আসি "সমালোচনা" কি তা নিয়ে।
(আলোচনা'র প্রভাব সম্পর্কে পরবর্তীতে আলোচনা করবো।)
সমালোচনাঃ এর ইংরেজি প্রতিশব্দ "Criticism" যার অর্থ দাড়ায়,"A critical judgment passed or expressed on a topic." অথবা বলা যায়, "A critical observation or detailed examination and review on a subject."
বাংলায় যাকে বলা হয়, চুলচেরা বিশ্লেষণ(বিশেষ করে বিষয়ের নেতিবাচক দিক এবং এর প্রভাবের সাথে সাথে উত্তরণের উপায়  নিয়ে যে  বিশ্লেষনী মন্তব্য করা হয়।)
ইংরেজি সংগা ছেড়ে  বাংলায় বাংলায় সঙ্গায়িত করা যায় এভাবে,
" কোন বিষয়ের উপর চুলচেরা বিশ্লেষণ, বিশেষ করে বিষয়ের ইতিবাচক ও নেতিবাচক উভয় দিকের(নেতিবাচক বিষয় অত্যাধিক গুরুত্ব পায়) উপর গভীর পর্যবেক্ষণমূলক  আলোচনা, যা বিষয়টির পর্যবেক্ষণকৃত অংশ নিয়ে বিশদ আলোচনাসহ মন্তব্য প্রকাশ করে।"
এই হলো আলোচনা ও সমালোচনা। এবার এই দুটি শব্দের প্রভাব এবং কোনটি বিষয়কে বেশি প্রভাবান্বিত করে তা নিয়ে ছোট্ট কয়েকটা কথা বলি। মূলত এই কথাগুলো বলার জন্যই উপরের ওইসব অযাচিত আলোচনা করা হলো।
বিগত কয়েকদিন যাবৎ চেতনায় চাটমোহরে আমরা অনেকেই বিভিন্ন গণ মাধ্যমের বিশেষ করে স্থানীয় গনমাধ্যম নিয়ে বেশ কয়েকটা পোষ্ট দেখেছি। সেখানে গনমাধ্যমকে আমরা কিভাবে দেখতে চাই, আর কেন সেভাবে দেখতে পাবো না,  তাই নিয়ে বিশদ আলোচনা এবং সেই সব সংবাদ মাধ্যমের গঠনমূলক সমালোচনা করা হয়েছে। তাদের ভুল গুলো যা দৃষ্টি কটু লাগে তা নিয়েও কথা হয়েছে।
আর এতে ওই সব সংবাদ মাধ্যমের কর্মীগন চড়াও হয়েছেন আলোচনাকারী ও সমালোচনাকারীদের উপর। অনেক কে আবার ডাইরেক্টলি অথবা ইনডাইরেক্টলি এসব সমালোচনায় যেতে,মন্তব্য করতে নিষেধ করা হয়েছে।কিংবা চাপ দেয়া হচ্ছে।
এবার প্রশ্ন হলো,  এই সমালোচনাতে সেই সব সংবাদ মাধ্যমের লাভ হয় না ক্ষতি হয়?
তার আগে বলে নেই। আমরা চাটমোহরবাসী কখনোই চাইনা যে,আমাদের মিডিয়াগুলো অন্যদের কাছে হাসির পাত্র হোক। অনলাইনে শুধুমাত্র আমাদের  চাটমোহরের মানুষ খবরটি দেখবেন, আর অন্য কেউ দেখবেন না,তা তো নয়!
তাহলে?
যদি একটা সংবাদে হাজারো ভুল থাকে তবে কি তা মানুষ গ্রহন করবে? করবে না।বরং ছি ছি করবে সেটাই স্বাভাবিক।
আর সেই ভুলগুলো নিয়ে আলোচনা , সমালোচনা না করলে এসব ভুল গুলো কি সংশোধন হবে?হবে না।হয় না।
সমালোচনা না হলে ওই ভুলটা আমরা এড়িয়ে যাই।তখন দায়ী ব্যক্তি দায়সারা কাজ করবেন। আর সেই সমালোচনা যদি নিজেরাই করি,নিজেদের ভুল গুলো নিয়ে তবে  কি সংবাদমাধ্যম গুলো উল্টো আমাদের উপর প্রতিশোধ নেয়ার পথ খুঁজবেন?
তবে সেই পথ খুঁজার আগে অন্তত মনে রাখবেন, কোন ভুল/খারাপ কাজ নিয়ে আলোচনার চেয়ে সমালোচনা বেশি হয়।
আর বড় কথা হলো,
জবাবদিহিতা না থাকলে তার আউটপুট কখনো ভালো হয় না।।
এবার আসি আলোচনা ও সমালোচনার প্রভাব নিয়ে।
মনে রাখা দরকার যে কোন বিষয়ের উপর আলোচনা বা সমালোচনা সেই বিষয়ের ক্ষতির চেয়ে লাভ করিয়ে দেয় বেশি।
উদাহরন সরূপঃ
নতুন একটা সিনেমা রিলিজ হলো, যেমন ধরুন PK. এবার সমালোচক গণ pk কে ধুয়ে মুছে  শেষ করে দিলেন আমীর খানের রেডিও হাতে জন্মদিনের পোশাক পড়ার দৃশ্য নিয়ে।ফলাফল সরূপ pk এর তেমন কিছুই হয়নি,সামান্য সংশোধন কিন্তু এই সমালোচনা পাবলিক ইন্টারেস্ট বহুগুণ বৃদ্ধি করলো। ফলাফল সরূপ সিনেমা হল হাউজফুল।Pk ব্যবসা সফল ছবি।।
আমি জানি,জ্ঞানীর জন্য ঈশারাই যথেষ্ট। এখন দেখবার বিষয়,আমাদের স্থানীয় গনমাধ্যম গুলো আমাদের আলোচনা, সমালোচনা কে কিভাবে নেন!!
[[আমার বিশ্বাস গত কয়েক দিনে আমাদের স্থানীয় পত্রিকার টি আর পি অনেক বেড়ে গেছে।
And obviously its only for those criticism last few days we have in Chetonay Chatmohar.]]
  • ১:১১:০০ PM
গল্পঃ অদৃশ্য নুপুরের শব্দ

গল্পটা বললে হয়ত কেউ বিশ্বাস করবেন না।কিন্তু এটা বাস্তবে আমার সাথে হয়েছিলো।  শুধু এই একটাই না আরো অনেক অতিপ্রাকৃত ঘটনার জলজ্যান্ত স্বাক্ষী আমি নিজেই। এখন যে গল্পটা বলছি তা ২০০৭ সালের ঘটনা।
তখন আমি চাটমোহর ডিগ্রী কলেজে পড়ি।আমার বাসা কলেজ থেকে খুব বেশি দূরে না হলেও পড়ালেখা ও আত্ম স্বাধীনতার জন্য মেসে থাকতাম।
আমাদের মেসটা ছিল চাটমোহর এর নাড়িকেল পাড়ার প্রায় উত্তর পশ্চিম সীমান্তে। আর আমার মেস থেকে কয়েক কদম হাটলেই চৌধুরী পাড়ার শুরু হয়।
যাই হোক, আমাদের মেসের নাম ছিলো "বকুল ছাত্রাবাস"। মেসের সামনে দিয়ে রাস্তা গেছে। আর রাস্তার ওপাশে ছিল "গুলজার ছাত্রাবাস"। মেসের উত্তর পাশে তখন হাজী সাহেবের ফাঁকা ভিটা।একটা বনের বেড়া আর টিনের চালার ঘর।সেখানে তেমন কেউ থাকত না।মাঝে মাঝে বাড়িওয়ালার ছেলে জামিন ভাই থাকতেন সেখানে। দক্ষিন দিকে একটা পায়ে হাটা রাস্তা চলে গেছে সোজা বিলের মধ্য দিয়ে "শিঙেল" নামক গ্রামে।ওই  রাস্তার সাথেই ছিল সরোয়ার ভাইদের কলার বাগান, আর বাগানের পেছনে একটা বড় পুকুর।শুনেছি,ওই পুকুরের পানি কোনদিন নাকি শুকাতো না।আর আমরা যে তিন-চার বছর ওই মেসে ছিলাম, সে চার বছরে কখনো পানি শুকাতেও দেখিনি।
যাই হোক, মূল প্রসঙ্গে আসি।
আমাদের মেসে আমরা একই ক্লাসের প্রায় বারো জন ছিলাম।সবাই একই ফিগারের আর একই রকম। সারাদিন  চুটিয়ে আড্ডা আর রাতে যে যত পড়তে পারে।
আমারো দিনের চেয়ে রাত জেগে পড়ার প্রতি বেশি ঝোক ছিলো। দেখা যেত কোন কোন দিন পড়তে পড়তে রাত তিনটে চারটে বেজে যেত।আর আমি যতক্ষন জেগে থাকতাম,ততক্ষন আর কেউ জেগে থাকত না।
আর এই রাত জাগার কারনেই আমি সেই অদৃশ্য নুপুরের আওয়াজ শুনতে পেয়েছিলাম।
সেদিন  ছিল ডিসেম্বরের কনকনে শীতের রাত। আমি দরজা জানালা লাগিয়ে ঘরে বসে পড়ছি। আমার ঘরটা ছিলো দক্ষিন পাশের রাস্তাটার সাথেই।যে রাস্তাটা বিলের মধ্য দিয়ে দূরের একটা গ্রামে চলে গেছে।আমার ঘরের একটা জানালাও ছিল সেদিকে।কিন্তু শীতের রাত তাই সব দরজা জানালা লাগিয়ে কম্বল গায়ে দিয়ে পড়ছিলাম সেদিন। শীতের দিনে রাত যেন খুব তাড়াতাড়িই গভীর হয়ে যায়।আমার বন্ধুরা অনেকেই দশটা না বাজতেই লেপ মুড়ি দিয়ে শুয়ে পড়েছে। কিন্তু প্রতিদিনের অভ্যেস বশত আমার ঘুমাতে অনেক দেরি হয়। আমি বই পড়ছি।পড়তে পড়তে কেবলই তন্দ্রা মত এসেছি,ওমনি জানালায় মৃদু দুইটা টোকা পড়লো।
ছ্যাৎ করে চমকে উঠলাম।টেবিল ঘরিটার দিকে তাকিয়ে দেখি রাত ১২:৩৩ বাজে। ভাবলাম,এত রাতে কে টোকা দিল! তারপর মনে হলো, হয়ত গ্রামের কোন লোক রাস্তা দিয়ে যেতেই হাতের টোকা লেগেছে।তাই তেমন গুরুত্ব দিলাম না।
আর রাত যেহেতু অনেক হয়েছে তাই দেরি না করে ঘুমাবো বলে লাইট অফ করে দিলাম। কিছুক্ষনের মধ্যে চোখ ভার করে ঘুম চলে এসেছে প্রায়, এমন সময় আবার দু'টো টোকা।
এবারের টোকা গুলো আগের গুলোর চেয়ে জোড়ে হলো। ধরফর করে বিছানার উপর বসে পড়লাম।জোড়ে করে বললাম, "কে? "
কোন সাড়া পেলাম না।
হাতের কাছের বেড সুইচ টা দিয়ে আলো জ্বালালাম।আলো জ্বালানোর সাথে সাথে জানালার পাশ থেকে কে যেন বিলের দিকে প্রথমে আস্তে পরে জোড়ে হেটে চলে গেলো।পায়ের শব্দ পেলাম না কিন্তু সুর তোলা নুপুরের আওয়াজ বলে দিল সব। আমি ভয়ে ভয়ে জানালা খুললাম। কিন্তু কই? কেউ নেই তো। ঘরের টিউবলাইটের সাদা আলো জানালার ফাঁক গলে রাস্তার উপর পড়েছে। সেখানে শীতের কুয়াশা ছাড়া আর কিছু নেই।
কি আর করা,জানালা বন্ধ করে আবার শুয়ে পড়লাম।আর মনে মনে নিজের বোকামির কথা ভেবে নিজেই লজ্জা পেলাম। সকালে উঠে কাউকেই কিছু বললাম না। শেষে সবাই এ নিয়ে হাসাহাসি করে! মনকে বুঝালাম,
দূর, ভূত টুত কিছু না! সব মনের ভ্রম।
কিন্তু আমার সেই ভ্রম ভাঙলো ২য় দিন।
সেদিনও আমি পড়ালেখা শেষ করে সাড়ে বারোটা নাগাদ বিছানায় শুলাম।মেসের অন্যরা অনেক আগেই ঘুমিয়ে পড়েছে। কিন্তু আমার চোখে তখনো ঘুম আসেনি।আমি পুরোপুরি সজাগ।এমনকি ফোনে আমার ঢাকার এক বান্ধবির সাথে চ্যাট করছিলাম। কিন্তু হঠাৎ আবারো জানালায় জোড়ে জোড়ে দু'টো টোকা পড়লো।
আকষ্মিক এ শব্দে আমার বুক ধরফর ধরফর করে উঠলো।  আমি স্পষ্ট জানালায় টোকা দেয়ার শব্দ শুনতে পেলাম। বুকে একটু সাহস সঞ্চয় করে জিজ্ঞাসা করলাম, "
কে? কে ওখানে? "
কেউ কোন কথা বলল না, শুধু একটা মেয়েলি হাসি শুনতে পেলাম।তারপর কেউ নুপুর পায়ে দৌড়ে গেলে যেমন শব্দ হয়,তেমন একটা শব্দ।
আমার গা ছম ছম করে উঠলো।
আমি পাশের ঘরে গিয়ে আমার বন্ধু মিরাজকে ডেকে তুললাম। ওকে সব ঘটনা খুলে বলতেই বলল,"চল যাই,দেখি কে? "
দুজনে দরজা খুলে বাহিরে এলাম।নাহ! কেউ নেই। আরেকটু এগিয়ে পুকুর পারে চলে এলাম, নাহ! কোথাও কেউ নেই।
মিরাজ বলল, "নানাতো ভাই, এসব তোমার মনের ভুল।ওসব কিছুই না।"
যাই হোক, দু'জনে ঘরে ফিরে এলাম।সেদিন রাতে আর কোন আওয়াজও পেলাম না।
তারপর আরো দু'দিন গেল, কোন শব্দ টব্দ নেই। আর আমি ভাবলাম, আসলেই মনে হয় সব আমার মনের ভুল।
কিন্তু ৪র্থ দিনের দিন ঘটলো সবচেয়ে আশ্চার্য জনক ঘটনা।
সেদিন অবশ্য আমি আগেই ঘুমিয়ে পড়েছিলাম। হঠাৎ মাঝরাতে ঘুম কিছুটা পাতলা হয়ে এলো।
চোখ খুলতেই সারা ঘরে অন্যরকম এক আলো দেখতে পেলাম।তারপর মুহুর্তে ভ্যানিশ হয়ে গেল সব।
আর জানালার পাশে কেউ যেন নুপুর পায়ে হাসতে হাসতে বিলের দিকে চলে গেল।
আমি বুকে সাহস সঞ্চয় করে ধীরে ধীরে বাহিরের দরজা খুললাম। তারপর বারান্দা থেকে নিচে নেমে বিলের দিকে চলে যাওয়া রাস্তায় ফুচকি দিলাম।
একি! 
একটা মেয়ে সাদা স্যালোয়ার কামিজ পরে পুকুরের পারে দাড়িয়ে আছে। যেন,এখনি পুকুরের মধ্যে লাফিয়ে পড়বে।
আমি মেয়েটাকে দেখে ভাবলাম, হয়ত এলাকার কোন মেয়ে অভিমান করে আত্মহত্যা করতে এসেছে।তাই জোরে ডাক দিলাম,
"এই, কে রে ওখানে? "
আমি ডাক দিতে না দিতেই মেয়ে টা পুকুরে লাফিয়ে পড়লো!
একবার সেদিকে দৌড় দিয়েছি প্রায়! তারপর কি যেন মনে করে, মেসে এসে মিরাজকে ডাকলাম।মিরাজ কে সব বলতেই ও বলল, "ভালো করেছো যে,ওখানে যাও নাই। গেলে আর আজ তোমাকে বাঁচানো যেত না।"
তারপর মিরাজ বলল, অনেক বছর আগে নাকি একটা মেয়ে ওই পুকুরে ডুবে আত্মহত্যা করেছিলো। আর তারপর থেকে তার এই আত্মাকে অনেকেই দেখতে পায়।
সব শুনে আমার আত্মারাম খাঁচা ছাড়া।আর সাতদিন প্রচন্ড জ্বর!
Nilkanto( নীলকান্ত)
  • ১:১১:০০ PM
ভূতের গল্পঃ প্লানচেট
সুমনের মায়ের আত্মাকে যে রাতে  হাজির করেছিলাম, সে রাতের মত ভয়াবহ রাত আমার জীবনে ২য় টি আসে নি। এখনো সে কথা মনে হলে গা শিউরে উঠে।
এই এখনি লোম গুলো খাড়া হয়ে ঊঠেছে। আপনাদের যদি দেখাতে পারতাম, তবে দেখতেন।
নাহ,থাক।আজ সে গল্পটা করবো না। গল্পটা শোনার পর আপনার রাতের ঘুম হারাম হয়ে যেতে পারে! আর সত্যি বলতে কি,আমারো কেমন কেমন যেন লাগছে!  ইচ্ছেই হচ্ছে না সে কথাগুলো আবারো মনে করি! আবার গল্পটা শেষ না করে উঠতেও ইচ্ছে করছে না। যত ভয়ংকরই হোক না কেন, আমার মত তো সবাই এত ভীতু না!
তাহলে শুরু করি,কি বলেন?
১৩ জুন ২০০৯ সাল। তারিখটা আমার স্পষ্ট মনে আছে।আর বার সম্ভবত সেদিন শনিবার ছিল। শনি ও মঙ্গলবার আত্মাদের হাজির করার মোক্ষম দিন। বিশেষ করে এই দুই দিন এরা স্বাধীন ভাবে ঘুরে বেড়ায়।সুযোগ পেলেই লোকজনকে ভয় দেখায় কিংবা বড় কোন অঘটন ঘটায়।
ছোট বেলা থেকেই আমার দাদীর কড়া নিষেধ ছিল শনিবার আর মঙ্গল বারে যেন বেশি রাত বাহিরে না থাকি। তাছাড়া আমার বাড়ির প্রায় পাশেই ছিল কবিরাজ মালু জ্যাঠার বাড়ি।তিনিও বারবার নিষেধ করতেন।আর নিষেধ করার বড় কারন ছিল,আমার ভূতুরে রাশি।
আপনি বিশ্বাস করবেন কিনা জানিনা কিন্তু ভূতুরে রাশির লোকই থাকে আলাদা। হয়ত একই সাথে দু'জন রাতের বেলায় হাটছেন, আপনি অনেক কিছুই দেখছেন কিন্তু আপনার সঙ্গী কিছুই দেখতে পাচ্ছে না। এমনও হয়।
আর নিজে এই ভুতুরে রাশির হওয়ায় এইসব আজে-বাজে নানা অভিজ্ঞতার সম্মুক্ষীন হতে হয়েছে বহুবার।
আর তাই, বাড়ি থেকে কঠিন নির্দেশ ছিল,
ইলিশ,কই কিংবা পুটি মাছ দিয়ে ভাত  খেয়ে ভর দুপুরে বাহিরে যেন না যাই! অথবা তেল পিঠা খেয়ে পানি না খেয়ে বাহিরে বের হওয়া ছিলো অসম্ভব।  এত কড়াকড়ির পরেও কখনো সখনো মিসটেক হয়ে যেত।
যাই হোক,
সেই ১৩ জুন,শনিবার ছিল এমনই একটা ভয়ঙ্কর রাত। ভয়ঙ্কর মানে শুধু ভয়ংকর নয়,এ এক বিভিষিকাময় কালো রাত।
ঠিক সেদিন থেকে একবছর আগে সুমনের মা, সুমনের বাপের উপর রাগ করে বিষ খেয়ে মরেছিল। সন্ধ্যার সময় বাড়ি থেকে বের হয়ে গেছিলো আর সারা রাত বাড়ি আসে নাই।পরেরদিন নূরুর পুকুরের পাশের এক জমিতে পরে ছিল মহিলার নীল হয়ে যাওয়া লাশ। আর সেদিন থেকে ঠিক উনত্রিশ দিন পর পিয়াঙ্কার মা নাকি একবার সুমনের মা'কে পুকুর পাড় দিয়ে হেটে যেতে দেখেছিলো!
যা হোক, সুমনের মা বিষ খেয়ে মারা যাবার তেতাল্লিশ দিনের দিন সুমনের বাবা নতুন একটা বউ নিয়ে এলো।  কিন্তু সেই নতুন বউ যে সংসারের শান্তির কাল হয়ে যাবে তা সুমনের বাপ ভাবতেও পারে নি। প্রথম কয়দিন ভালোই চলল। তারপর শুরু হলো নতুন বউয়ের আসল চেহারা প্রদর্শন।  ছোট্ট সুমনটা তখন কেবল ছয়-সাত বছরের।কিন্তু ওই ছোট্ট বাচ্চা ছেলেটার সাথে সৎ মা নানাভাবে অত্যাচার করা শুরু করল। সৎ মায়ের আচরনে ক্ষুব্ধ সুমন অভিমান করে বাড়ির বাহিরে তাল গাছ গুলোর নীচে গিয়ে বসে  থাকত। আর তেমনি একদিন ভর দুপুর বেলা সুমন তাল গাছের নীচে বসে আছে। এমন সময় পশ্চিমের বাগানটার কাছ দিয়ে ওর আপন মা'কে আসতে দেখলো (সুমনের ভাষ্যমতে)। মা'কে দেখে আনন্দে আটখান সুমন কিছুদূর দৌরে গিয়ে মা'কে জড়িয়ে ধরে সৎমা আর বাবার বিরুদ্ধে হাজারো অভিযোগ একে একে তুলে ধরল,কিভাবে তার নতুন মা তার সাথে খারাপ ব্যবহার করে!, কিভাবে বাবা আর আদর করে না, সব সব কথা। ছোট্ট সুমনের কথা শুনে ওর হারিয়ে যাওয়া মা নাকি কেঁদে ফেলল।আর সুমনকে বলেছিল,
"যা বাপ,বাড়ি যা।আমি একটু পরে আসতেছি।"
মহা খুশি সুমন দৌড়ে বাড়িতে এসে সবাইকে ডেকে ডেকে মায়ের সাথে দেখা হওয়ার কথা বলল।কিন্তু কেউই ওর কথায় কর্ণপাত করলো না।
আমার কাছে এসে আমাকে জাপটে ধরে বলল, "ও কাকা, আমি না মা'ক দেখিছি।"
আমি ওকে কাছে বসিয়ে খুটে খুটে সব জিজ্ঞাসা করলাম।কি দেখেছি,কিভাবে দেখেছে,আর কি কি কথা হইছে,সব কিছু।  সাত বছরের ছোট্ট সুমন গটগট করে সব কথা বলে গেল।
আমি ওর কথা পুরোপুরি বিশ্বাস না করলেও একেবারে উড়িয়ে দিলাম না।এমনকি ছোট্ট সুমনকেও কিছু বললাম না।থাক না বেচারা মায়ের ফিরে আসার শান্তনা নিয়ে! তাও যদি ও একটু ভালো থাকে!!
সেদিন সন্ধ্যা থেকে শুরু হয়েছিলো উৎপাত। সুমনের নতুন মা যেখানেই যাল,সেখানেই ভয় দেখাত।এমনকি একবার তো, কাঁচা পায়খানার মধ্যে উপর করে পুঁতে ফেলতেও চেয়েছিল।ভাগ্যিস সেদিন হুজুরের বউ(বাড়ির পাশের এক মহিলা) পায়খানা ভাঙার শব্দে এগিয়ে এসেছিলো। তা না হলে সেদিনই সৎমায়ের কেল্লা ফতে!!
তারপর থেকে সৎমা একা একা টিউবওয়েল পারেও যেত না।
কিন্তু ক'দিন আর এভাবে থাকা যায়।ভয়ে ভয়ে মহিলাটা বাপের বাড়ি গেল কয়েকদিনের জন্য। আর সেই কয়েকদিন আর কেউই কিছু দেখলো না। সুমনের সৎমা কবিরাজের কাছ থেকে তেল,মাদুলি,পানি পড়া প্রভৃতি নিয়ে কয়েকদিন পর আবার এই বাড়িতে ফিরে এলো।
আর কবিরাজের উপর দৃঢ় ভরসায় সব কিছুকে তুচ্ছ জ্ঞান করা শুরু করলো।কিন্তু কথায় আছে,পিপিলিকার পাখা গজায় মরিবার তরে!
একদিন এই নব্য পাখনা যুক্ত মহিলারও শেষ দিন চলে এলো।  সুমনের সৎমা এ বাড়িতে এলেও প্রায় মাস খানেক আর কিছুই দেখলেন না।ভাবলেন , সব কিছু স্বাভাবিক হয়ে গেছে। কিন্তু এক মাস পর থেকে শুরু হলো নতুন উপদ্রব।
রাত-বিরাতে হঠাৎ করে ঘরের বাহিরে গরুর হেটে চলার শব্দ পাওয়া গেল,কখনো খুব কাছ থেকে কেউ যেন ফিসফিস করে কিছু বলছে এমন শোনা যেত।মনে হত,এই জানালার ও পাশে দাঁড়িয়ে দুজন মানুষ নিজেদের মধ্যে আলাপ করছে।
এমনকি সৎমা দু একদিন সে কথা শোনার চেষ্টা করল না,তাও না।জানালার সাথে কান পেতে থাকল কিন্তু কিছু বুঝতে পারলো না।বরং ফিসফিসানি শব্দ শোনা যেত শুধু। এভাবে চলতে চলতে একদিন ঝড়-বাতাস ছাড়াই সৎমায়ের গায়ের উপর আম গাছের ডাল ভেঙে পড়তে পড়তে বেঁচে গেল।
তারপর একদিন দুপুর বেলায় হঠাৎ করে বাড়ির পাশের আম গাছটা কেউ একজন যেন জোরে জোরে ঝাঁকাতে শুরু করলো।সেকি এই ঝাঁকি না সেই ঝাঁকি! না দেখলে কেউ বিশ্বাস করবেন না।
যা হোক, এত কিছু এক বছর ধরে চলতে থাকলো। 
একদিন বিকেলে সুমন এলো আমার কাছে।এসে বলল, "ও কাকা,কাকা!  মা তো আর আসলো না?"
আমি ওকে কোন উত্তর দিতে পারলাম না।শুধু বললাম, "দূর ব্যাটা! এত ভাবতেছিস ক্যান? মা আসবিনি।"
ভাতিজা সুমন যেন একটু আশা খুঁজে পেল।ওর চোখ মুখ চকচক করে ঊঠলো। তার পর ভো দৌড় দিয়ে বাড়িতে।
সুমন চলে যেতেই আমার একটা চিন্তা মাথায় এলো। 
আচ্ছা,সুমনের মা কি চায়? কেন এমন করছে?
আমি জানি এর উত্তর একমাত্র সুমনের মা'ই দিতে পারে। মাথার মধ্যে দুষ্ট বুদ্ধি চলে এলো। প্লানচেট করবো বলে স্থির করলাম।কিন্তু কিভাবে?
এর আগে একটা কথা বলে রাখি।আমি যখন এস এস সি তে পড়তাম তখন আমার এক বন্ধু সুজন কবিরাজি শিখত। ও আমাকে কয়েকটা কবিরাজির বইও দিয়েছিলো। আর সেই বইয়ের নিয়ম অনুযায়ী সে বয়সে কিছু আমলও করেছি।
স্মশান থেকে পয়সা, হাড় এসব সংগ্রহ করেছিলাম অনেক আগেই। কিন্তু তার ব্যবহার করার সাহস কখনো হয়ে উঠেনি। আর আমার মা একদিন সেই সব কবিরাজীর বই,ডায়রি খুঁজে পেয়ে নিষ্ঠুর ভাবে পুড়িয়ে দিয়েছিলো। আর তা পুড়িয়েছে আমার ভালোর জন্যই।সেই পুড়ানোর হাত থেকে দু একটা বই রক্ষা পায়।তেমনি একটা বই নিয়ে আমি আবার পড়া শুরু করলাম। খুব মনযোগ সহকারে পড়ে পড়ে করনীয় কাজ গুলো লিখে রাখলাম।
প্লানচেট করতে অন্তত আরো দু'জনকে দরকার। যারা আমাকে শক্তি দিতে পারবে। অনেক ভেবে চিন্তে আমার বাল্য বন্ধু সফিকুল আর জাকির কে সব কিছু খুলে বললাম। ওরা রাজি হয়ে গেল।
তারপর কিছু আনুসাঙ্গিক প্রয়োজনীয় জিনিস যেমন সোয়া সের আতপ চাল,আগরবাতি, শ্মশ্মানের পৌনে দুই টাকা,  মরা মানুষের বিছানার চাদরের টুকরা, সুমনের মায়ের কাপড়ের টুকরা ইত্যাদি খুব গোপনে সংগ্রহ করলাম।
তারপর এলো কাঙ্খিত রাত,
১৩ জুন ২০০৯, শনিবার। ঘুটঘুটে কালো এক রাত।
আমরা ক'জন রাত ১২ টা নাগাদ জাকিরের ঘরে বসলাম।( জাকিরের বাড়িতে সেদিন কেউ ছিলো না।)
সবাই পুত পবিত্র হয়ে মাটিতে প্লানচেট ছক আকালাম।তারপর বইয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী যা যা করতে হবে, সবই করলাম।রাত একটা নাগাদ তিনজন মুখোমুখি বসে আছি।আমি প্লানচেটের জন্য কালি ষষ্ঠী মন্ত্র জপ করলাম, তারপর আত্মামাং মন্ত্র।
মন্ত্র জপ করতে করতে নাকে তীব্র ঝাঁঝালো এক গন্ধ পেলাম।তারপর,
সারা ঘর যেন কাঁপতে থাকলো। আমি আগেই ওদের বলেছিলাম, যেন কেউ ভয় না পায়।ভয় পেলে নির্ঘাত মৃত্যু। কিন্তু তারপরেও আমারই ভয় ভয় লাগতে শুরু করতেই নিজের দূর্বলতা টের পেলাম।সঙ্গে সঙ্গে জাকিরের হাত জোরে করে ধরলাম।আমার অন্যহাত শ্মশ্মানের হাড়টার উপর।
আমি জানি,যতক্ষন আমি দূর্বল না হবো ততক্ষণ আমার কিছুই হবে না।
একটা জোরে করে নিশ্বাস নিয়ে চোখ খুললাম।
একটা ছায়া-মূর্তি দাড়িয়ে আছে আমাদের থেকে একটু তফাতে।
আমি বললাম, "কে? "
ছায়া-মূর্তি হাসতে হাসতে বলল," কিরে, আমাকে চিনতে পারিস নাই? আমি তোর ভাবি।আমাকে ডাকতেই তো এসব করা,তাই না? হা হা হা "
আমি বললাম, "হ্যা।"
সুমনের মা বলল," আমি অনেক সুযোগ খুঁজছিলাম, তোর সাথে দেখা করার কিন্তু সুযোগ পাই নাই।আজ পেলাম।"
আমি বললাম, "ভাবি,আসলে তুমি এমন করলা কেন? আর এখনই বা এমন করতেছো কেন? "
এবার সুমনের মা একটু গর্জন করে উঠে বলল, "ক্যান,তুই জানিস না? কেন আমি এমন করেছিলাম? আর কেন করতেছি? "
"সুমনের বাপ ওই মাগীর জন্য আমার গায়ে হাত তুলিছিলো।তাই রাগ কইরে আমি বিষ খেলাম।আর ওই মাগী আমি মরতে না মরতে আমার ঘরে ঢুকিছে! "
"আমার ছোট্ট সাওয়ালের সাথে কি খারাপ ব্যবহারই না করেছে! আমার ছাওয়ালডা আমার জন্যি কাঁদে।
আমি কিছুতেই ওই মহিলাকে থাকতে দেব না।এমন কি কোন মহিলাকেই না।"
দৃঢ় কন্ঠে সুমনের মা কথাটা বলল।রাগে তার কন্ঠ থেকে সাপের মত ফোস ফোস শব্দ হচ্ছে। আমি কিছু একটা বলতে যাবো,ওমনি সুমনের মা বলল,
"তুই আর এসব করিস না।তোর এসব কিছুই না।আমি এমনিই তোর সাথে দেখা করতে এসেছিলাম,একটা সংবাদ দিতে।"
আমি কৌতুহলী হয়ে জিজ্ঞাসা করলাম, "কিসের সংবাদ? "
সুমনের মা এবার ফুফাতে ফুফাতে বলল, "আমি আমার ঘরে কাউকে থাকতে দেব না।এমনকি দুনিয়াতে না। "
"ওই মহিলার সময় শেষ হয়ে গেছে।আম ওকে পানির মধ্যে চুবায়া আসিছি। হা হা হা "
"যাহ! আর এসব করিস না কখনো। "
আমি হব্ব-তব্ব লেগে গেলাম।কি? সত্যিই নাকি? ঘর আবার কাঁপতে শুরু করলো।তারপর আর কিছুই নেই। জাকির আর শফিকুল তো ভয়ে চুপসে আছে। শফিকুল কি যেন বলতে চেয়েও বলতে পারলো না!
সুমনদের বাড়ি থেকে চেঁচামেচির আওয়াজ আসছে।কি যেন হয়েছে সেখানে!
কান খাড়া করে শুনার চেষ্টা করলাম।যা শুনতে পেলাম, তারপর তিনজন পরস্পরের মুখের দিকে তাকিয়ে চুপসে গেলাম ঘটনার আকষ্মিকতায়।।এত দ্রুত সব ঘটে গেল ভাবতেই পারছি না তখনও।
Nilkanto( নীলকান্ত)®
Writer information NILKANTO