সেই কবে কোন এক বসন্তে দেখেছিলাম তোমায়
ক্যাফের পাশে মেঘছোয়া সেই কৃষ্ণচুড়া গাছটার নিচে।
আগুনরঙা কৃষ্ণচুড়ার গালিচার ওপর দিয়ে হাটছিলে তুমি
নীল শাড়িতে কি যে অপুর্ব লাগছিলো তোমায়!
মুগ্ধ বালকের মতো চেয়ে ছিলাম তোমার পানে
মনে আছে?
আচ্ছা,আমাকে কি বেহায়া ভেবেছিলে সেদিন?
জানো,আমার জীবনেও যেন বসন্ত নেমে এসেছিল,সেবার।
সেই প্রথম এবং সম্ভবত শেষ বসন্ত।
তারপর একে একে কেটে গেছে গীস্ম,বর্ষা,শরৎ
অগ্নিবৃষ্টির মতো ঝরে গেছে সবগুলো কৃষ্ণচুড়া।
কতদিন হয়ে গেলো দেখিনা তোমায়
পরিচিত কাচের চুড়ির শব্দও শুনিনা।
সেই কবে শুনেছিলাম তোমার কন্ঠস্বর,
দেখেছিলাম তুচ্ছ কথায় তোমার রাগত মুখ
তারপর একে একে কত বসন্ত কেটে গেলো
শুনিনি তোমার কন্ঠস্বর,তোমার হাসি
কালের গর্ভে হারিয়ে যায় কত বসন্ত
কই,আমার বসন্ত তো আর আসে না!
আসবে কিভাবে?
বাসন্তী ছাড়া কি বসন্ত সম্ভব বলো!
আবার কোন এক বসন্তে
আকাশী-নীল শাড়িটা পড়ে এসো
সেই কৃষ্ণচুড়া গাছটার নিচে।
আর একটিবার শুধু!
এবার কিন্তু ভুল করবে না
কপালের কালো টিপটা এবার যেন থাকে।
এবারও কিন্তু খোলা চুলেই আসবে
আরেকবার নিজেকে হারাবো তোমার ভেজা চুলের গন্ধে
শেষ বেলায় আর একটিবার
অন্তত একটিবার ফিরিয়ে দিও আমার বসন্ত!


