:::: MENU ::::
  • slider image 1

    Take my hand, take my whole life too.

  • slider image 2

    I never want to live without you

  • slider image 3

    I am who I am because of you.

শুক্রবার, ২৫ অক্টোবর, ২০১৯

  • ১২:১৬:০০ PM

আজ আমি নীরবে মেনে নেই সব। আজ আমি সব পারি, পারতে হয়। এতটুকু প্রতিবাদ নেই কণ্ঠে। নিজস্বতা, স্বাধীনতা বলতে দিন শেষে ঘরে ফিরে এক মুঠো ভাত, ক্লান্ত শরীর, ছটফটানি ঘুম। তবুও ভাল আছি আমি। নিম্ন মধ্যবিত্তের বড় ছেলেদের সব শেষে ভাল থাকতে হয়। একজন সাধারন গৃহিণী নারীর ছা পোষা হাসব্যান্ডকে ভাল থাকতে হয়। মুখে হাসি টেনে বলতে হয়, আমি ভাল আছি। ভাল থাকাটা শিখে গেছি মেনে নেয়ার সাথে সাথে।।

পৃথীবির চিরাচরিত দাসত্বের সাথে নিজেকে মানিয়ে নিয়েছি অথবা চেষ্টা করছি মানিয়ে নিতে। 

জীবনের ত্রিশটা বছর সুখের পেছনে ছুটতে ছুটতে কখন যে সুখ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছি বুঝতে পারিনি। 

একটা সময় ছিল যখন ভর দুপুরে ঘুরি উড়ানোতে সুখ ছিল। সুখ ছিলো ঘন্টার পর ঘন্টা পানিতে ঝাপাঝাপি, বাটুল হাতে সকাল দুপুর পাখি শিকারের প্রাণান্ত শ্রেষ্টায়, কিংবা কাঁচা আমের করালি ঝিনুকের খোলস দিয়ে ছিলে তেল মরিচের ভর্তা, আর পাঁকা আমের নেশায় এ ডাল থেকে ও ডালে ঘুরে বেড়ানো কিংবা ঝড়ের মাঝে গাছের নীচে দাঁড়িয়ে আম কুড়ানোয়।

সুখ ছিল কলার ভেলা বানিয়ে বন্যার পানিতে ভেসে বেড়ানোতে, শৈশবের বন্ধু-বান্ধবীর সাথে ভেন্না তলায় কলার পাতার ঘর বানিয়ে চড়ুইভাতির পাতিলে। সুখ ছিল তিন চাকার বিয়ারিং এর গাড়ি বানিয়ে অথবা সুপারি পাতার খোলসে বসে ধুলো রাস্তায় আগে যাবার প্রতিযোগিতায় । সুখ ছিল, জোসনা রাতে পানি দিয়ে কোর্ট কেটে বদন খেলায় কিংবা ধানের ক্ষেতের আইল ধরে নিরুদ্দেশ হেটে চলায়। সুখ ছিল,  মধ্য দুপুরে ক্লান্ত শরীরে বাড়ি ফিরতেই মায়ের বকুনিতে, দাদীর আদরে, বাবার শাসনে।

সুখ ছিল, বৃষ্টি হলে হাই স্কুলের বারান্দায় বন্ধুদের আড্ডায়, টিফিনের ফাঁকে ভাল লাগার মানুষটাকে ইশারায় মনের কথা বলাতে। সুখ ছিল, ক্লাসের শেষ ব্রেঞ্চে বন্ধুদের আড্ডায়, কিংবা রাজপথে মিছিলে ছান্দসিক চলাতে।।

সুখ ছিল, ভার্সিটির গেটে দাঁড়িয়ে রহিম ভাইয়ের দোকানের চায়ের চুমুকে, সারা রাত বন্ধুদের সাথে তাশ আর সিগারেটের আড্ডায়। সুখ ছিল, রাত জেগে মধ্য দুপুরে আড়মোড়া ভাঙতে, পড়ন্ত বিকেলে বান্ধবীর হাত ধরে হাটাতে।

তারপর দিন ফুরালো। সুখ গুলো একে একে ধূসর হতে শুরু করল অজান্তেই। বেকারত্বের অভিশাপ আর স্বাধীনতার অভিলাষকে একসাথে মেটাতে কতই না কিছু করলাম! কিন্তু ওই যে মধ্যবিত্তের শৃঙ্খলে বাধা জীবনে স্বাধীনতা এক আকাশকুসুম স্বপ্ন ছাড়া কিছুনা! 

নিত্য নতুন দৈন্যতা, অভাব, অভিযোগ থেকে ধীরে ধীরে একটু সুখের খোঁজে অসুখের বাসা বাধালাম মনে। দাসত্বের শৃঙ্খল বন্দী হওয়ার নেশায় পড়ে হলাম চাকুরীজীবী।

চাকুরী?  সে তো স্বাধীনতার বিসর্জন।  নিজেকে গলা টিপে হত্যা করে নতুন মানুষ হওয়ার চেষ্টা। আমিও হত্যা করেছি নিজেকে। দিয়েছি প্রবোধ অবুঝ মনটাকে। বলেছি, "এভাবেই মেনে নিতে হয়। মানিয়ে চলতে হবে এভাবেই।"


সোমবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০১৯

  • ৬:২৭:০০ PM

পুরুষ মানুষকে যদি কোন স্ত্রী বশে রাখতে চান, তবে তার সাথে ভাল ব্যবহার করুন, যা বলে তাই শুনুন, দিন কে রাত, রাত কে দিন বললে মেনে নিন।
তারপর রাতের বেলায় ঠান্ডা মাথায় সুন্দর করে আপনার আবদার টা উপস্থাপন করুন। যদি আপনার আবদার শুনে সে রাগ করে তবে তার কথা মেনে নিন। এরপর, রাগ না করে হাসিমুখে তাকে বিষয়টি বুঝিয়ে বলুন।
দেখবেন আমতা আমতা করলেও সময় মত আপনার কাজ হয়ে গেছে। 
এবার আরেকটা কথা বলি, আপনি কি সারাজীবন শুধু কম্প্রোমাইজ করে চলবেন? 
না, সুন্দর সম্পর্কের জন্য উভয় পক্ষকে কম্প্রোমাইজ করতে হয়। শুধুমাত্র স্ত্রী কিংবা স্বামী সারাজীবন কম্প্রোমাইজ করে চললে স্ত্রীর কিংবা স্বামীর নিজস্বতা,ব্যক্তিত্ব বলে কিছু থাকে না। সুতরাং আপনি স্ত্রী হিসাবে অবশ্যই রাগ,যেদ,অভিমান করার অধিকার সংরক্ষন করেন। কিন্তু সবসময় একটা জিনিস মাথায় রাখবেন, কোন কিছুই যেন অতিরিক্ত না হয়।

আর স্ত্রী দের বলছি, "পুরুষরা হলো বন্য ঘোড়ার মত। এদের বশ করতে হলে রাগ, যিদ কিংবা অভিমান নয়,হাসি মুখে কথা বলতে হবে। দেখবেন এক সময় বন্য ঘোড়া টা সুন্দর ভাবে বশে চলে এসেছে। তখন আপনি যেভাবে চাইবেন আপনার ঘোড়া সেভাবেই চলবে।"

সর্বশেষে আপনাদের সুন্দর ও সুখী দাম্পত্য জীবনের আশা ব্যক্ত করছি।

#সম্পর্ক_নীলকান্ত

বুধবার, ১৪ আগস্ট, ২০১৯

  • ১১:৪২:০০ AM
আমার ও
------------দু'চোখ ভরা অভিমান নিয়ে ও প্রায়ই বলে,"তুমি আমাকে নিয়ে কোথাও ঘুরতে যাও না। "
"বল তো,আমাকে নিয়ে তুমি কোথাও বেড়াতে গেছো? "
তারপর
ওর অভিমানী চোখের পাতায় না পাওয়ার শিশিরেরা ভর করে । আমি একটু ভেবে দেখি,সত্যিই তো, ওকে নিয়ে কোথাও সেভাবে ঘোরা হয়নি!আমাদের সীমাবদ্ধ ঘোরা ফেরা শুধু সাত মাথা থেকে খোকন পার্ক আর বড়জোর বিসিএল কিংবা কোয়ালিটিরর ফাস্ট ফুড শপ।তার বাইরে তেমন কোথাও যাওয়া হয়নি।এমনকি এক দেড় ঘন্টার বেশি বাহিরে যে ওকে সময় দিতে পেরেছি তাও না! বরং যা দিতে পেরেছি তা হল, অনাগত ভবিষ্যৎ জীবনে দু'জন সারা দেশ ঘুরে বেড়াবো সেই অনিশ্চিত প্রতিশ্রুতি।
তবে কি এ অভিমান যথার্থ নয়? হ্যা,,অবশ্যই তার এ অভিমান করা অমূলক নয়।অমূলক নয় অভিমানের বাহিরে এসে সম্পর্ক কে সেখানেই ইতি টানা।
কিন্তু না,সে সামান্য অভিমান করেছে বটে আবার পরক্ষণেই সে অভিমান ভুলে কখন যে দীর্ঘ ঘর সংসার করা গৃহিণীদের মত বড় মানুষ হয়ে গেছে ও নিজেও বুঝত না।
আমি ওকে বলি,"তো চল যাই,কোথাও থেকে ঘুরে আসি।" 
ও তখন বড় মানুষের মত বলে,"আগে তোমার চাকরী বাকরি কিছু একটা হোক।তারপর সব সুদে আসলে উশুল করবো। কিন্তু এখন না। "
কথা বলতে বলতে ওর চোখ মুখ চকচক করে উঠত ভবিষ্তের দিকে তাকিয়ে।মিষ্টি একটা হাসি দিয়ে কাঁধের উপর হেলান দিয়ে আস্তে আস্তে বলত,"আই লাভ ইউ সো মাচ সোনা।উই হ্যাভ আদারস টাইম টু গো।"
আমি ওর চোখের দিকে তাকিয়ে মনে মনে ভাবি,"যেন সে সময় আসার আগে বিধাতা আমাকে তুলে না নিয়ে যান। তা না হলে মৃত্যুর পরেও এই অপ্রাপ্তির ভার আমায় বয়ে বেড়াতে হবে।"
এভাবে ওর মুখের দিকে তাকিয়ে থাকতে থাকতে ইচ্ছে করে জড়িয়ে ধরে বলি,আই লাভ ইউ টু।ইয়া,উই হ্যাভ আদারস টাইম টু গো।বাট উই উইল নেভার গেট দিজ মোমেন্ট ব্যাক।"
কিছুটা কষ্ট বুকের মধ্যে বাসা বাঁধতে চায়। কিন্তু ওর টোল পড়া গালের মিষ্টি হাসি আর আমার বর্তমান পরিস্থিতি বুঝে ওর এমন বড় মানুষের মত কথা শুনে সব ভুলে যাই।একে একে গত প্রায় এক বছরের সুন্দর মুহুর্ত গুলো চোখের তারায় এসে ভীর জমায়। সেই সব স্বপ্ন দেখার আর স্বপ্ন দেখানোর দিনগুলো। 
ও আমাকে এতটা ভালোবাসে,এতটা কেয়ার করে,মাত্র উনিশের কোঠায় সে যখন হঠাৎ অনেক বড় হয়ে যায় তখন
নিজেকে খুব লাকি মনে হয়। মনে হয়,আমার চেয়ে পৃথিবীতে খুব কম মানুষই আছে যারা এতটা সৌভাগ্যবান হয়,এতটা ভালো কাউকে জীবন চলার সঙ্গী হিসেবে পায়।।
সত্যি কথা বলতে কি জানেন,
জীবনের ছোট ছোট সুখের মুহুর্ত গুলো আপনার জীবনের সবচেয়ে বড় দুঃসময় কেও ভুলিয়ে রাখতে পারে। ছোট ছোট অভিমান ভরা মুহুর্ত গুলো আপনার বন্ধুর পথচলায় আনন্দ এনে দেয়।আপনি তখন অনায়াসে দুঃস্বপ্নের এভারেস্ট জয় করতে পারেন সহজেই।পারেন নিজেকে নতুন করে খুঁজে পেতে।

আপনার প্রিয় মানুষটির প্রতিটি মুহুর্ত কে বুঝার চেষ্টা করুন।তার ভালোলাগা, মন্দ লাগাকে যথার্থ মূল্যায়ন করুন।প্রচন্ড খারাপ লাগার মুহুর্ত গুলোতে একটু পেছন ফিরে তাকান,প্রিয় মানুষের সাথে কাটানো প্রিয় মুহুর্ত গুলো স্মরণ করুন, দেখবেন কত সহজেই সেই খারাপ লাগা ভালোলাগায় বদলে গেছে।

সম্পর্কের মাঝে রাগ-অভিমান, সুখ দুখ,হাসি-কান্না খুব পাশাপাশি। এগুলো কে এড়িয়ে যেতে কেউ পারে না।কিন্তু একটু চেষ্টা করলে নেতিবাচক বিষয়গুলোকে অবশ্যই কমিয়ে আনা সম্ভব। প্রিয় মানুষটি যখন আপনার উপর প্রচন্ড অভিমান করেছে,যখন আপনার কোন ভুলে সে কষ্ট পাচ্ছে তখন অবলীলায় তাকে "সরি" বলুন। নিজের ভুলের জন্য তার কাছে মন থেকে ক্ষমা চান।অভিমান ভাঙান।
আমার মতে,সম্পর্কের মাঝে রাগ-অভিমানকে জিইয়ে রাখা কখনোই উচিত নয়। অনেক সময় আপনি যেটাকে ভাবছেন কিছুই নয়,সেটাও অন্য কারো কাছে অনেক বড় কিছু হতে পারে। তাই যত দ্রুত নিজেদের মধ্যে মিউচুয়াল হওয়া যায় ততই মঙ্গল। ততই সম্পর্ক টা দীর্ঘস্থায়ী ও সুদৃঢ় হয়।

আপনি বিশ্বাস করবেন কি না জানি না,কিন্তু আমার আর ওর মাঝে প্রতিদিন ঠুক ঠাক লেগেই থাকে।কখনো কখনো আমি ইচ্ছে করেই লাগাই আবার কখনো ভুল বুঝাবুঝিতে লাগে।কিন্তু তা সত্বেও ও কখনোই আধা ঘন্টার বেশি রাগ করে থাকেনি।এমনকি আমিও না।তবে মাঝে মাঝে আমি একটু বেশি রাগ করেছি হয়ত,একটু বেশি সময় ধরে ওকে ফোন দিচ্ছি না,কথা বলছি না কিংবা ফোন ধরছি না, তখন ও পাগলের মত আমাকে ফোন দেবে।ফোন ধরলে ধরা গলায় যখন বলে,"আই য়াম সরি।ভুল হয়ে গেছে আমার।"কিংবা "সরি জান আই লাভ ইউ।"
তখন রাগ তো দূরের কথা, আমি যে কেন রাগ করেছিলাম সেটাও আর মনে করতে পারিনা।
আচ্ছা,এটা কে কি তবে ভালোবাসা বলে? হ্যা,এটাই ভালোবাসা।আর সম্পর্কের মাঝে দুঃখ গুলো, রাগ অভিমানের কারন গুলো ভুলে যাওয়াই উত্তম।ভুলে যাই,ভুলে যায়,আপনিও ভুলে যান।
দেখবেন কত সহজেই সবকিছু সুন্দর হয়ে গেছে।পৃথিবীটাকে কত প্রেমময় কাব্যিক মনে হচ্ছে।
বেঁচে থাকার ইচ্ছেটা বেড়ে গেছে শতভাগ ।
আমি নিজেকে অনেক সৌভাগ্যবান মনে করি ওকে পেয়ে।কারন ওই আমাকে শিখিয়েছে, কিভাবে ভালোবাসতে হয়। কিভাবে বাঁচতে হয়।সুন্দর পৃথিবীটাকে কিভাবে নিজের করে নিতে হয়!

তোমাকে অনেক ভালবাসি আমি,যতটা ভালোবাসা যায়।

প্রকাশকালঃ ১৪ আগষ্ট ২০১৫ ইং

বুধবার, ৭ আগস্ট, ২০১৯

  • ৯:৩২:০০ AM
জীবন থেকে সুখ গুলো সব উড়ে গেছে, 
ব্যর্থতারা ছায়ার মত পিছু লাগে।।
হতাশার ছানিপড়া চোখে, আশার আলোও যেন আধারে ডাকে।
স্বপ্নগুলো সব ধরাশায়ী তাই হৃৎপিন্ডের ব্লকেজে,
আমি যে হেরে গেছি আজ জীবনের শো-কজে।
ভাবি, মৃত আর অমৃতের মাঝে আমি এক সাদাকালো জঞ্জাল।
আমাকে গ্রাস করেছে তাই নিরাশা, ব্যর্থতা আর
বেকারত্বের ধূসর কঙ্কাল।।

নীলকান্ত©

বুধবার, ২৯ মে, ২০১৯

  • ৪:৪৫:০০ PM
joy goshwami kobita photo
পাগলী, তোমার সঙ্গ

পাগলী, তোমার সঙ্গ
- জয় গোস্বামী--

পাগলী, তোমার সঙ্গে ভয়াবহ জীবন কাটাব
পাগলী, তোমার সঙ্গে ধুলোবালি কাটাব জীবন
এর চোখে ধাঁধা করব, ওর জল করে দেব কাদা
পাগলী, তোমার সঙ্গে ঢেউ খেলতে যাব দু’কদম।

অশান্তি চরমে তুলব, কাকচিল বসবে না বাড়িতে
তুমি ছুঁড়বে থালা বাটি, আমি ভাঙব কাঁচের বাসন
পাগলী, তোমার সঙ্গে বঙ্গভঙ্গ জীবন কাটাব
পাগলী, তোমার সঙ্গে ৪২ কাটাব জীবন।

মেঘে মেঘে বেলা বাড়বে, ধনে পুত্রে লক্ষ্মী লোকসান
লোকাসান পুষিয়ে তুমি রাঁধবে মায়া প্রপন্ঞ্চ ব্যন্জ্ঞন
পাগলী, তোমার সঙ্গে দশকর্ম জীবন কাটাব
পাগলী, তোমার সঙ্গে দিবানিদ্রা কাটাব জীবন।

পাগলী, তোমার সঙ্গে ঝোলভাত জীবন কাটাব
পাগলী, তোমার সঙ্গে মাংসরুটি কাটাব জীবন
পাগলী, তোমার সঙ্গে নিরক্ষর জীবন কাটাব
পাগলী, তোমার সঙ্গে চার অক্ষর কাটাব জীবন।

পাগলী, তোমার সঙ্গে বই দেখব প্যারামাউন্ট হলে
মাঝে মাঝে মুখ বদলে একাডেমি রবীন্দ্রসদন
পাগলী, তোমার সঙ্গে নাইট্যশালা জীবন কাটাব
পাগলী, তোমার সঙ্গে কলাকেন্দ্র কাটাব জীবন।

পাগলী, তোমার সঙ্গে বাবুঘাট জীবন কাটাব
পাগলী, তোমার সঙ্গে দেশপ্রিয় কাটাব জীবন
পাগলী, তোমার সঙ্গে সদা সত্য জীবন কাটাব
পাগলী, তোমার সঙ্গে ‘কী মিথ্যুক’ কাটাব জীবন।

এক হাতে উপায় করব, দুহাতে উড়িয়ে দেবে তুমি
রেস খেলব জুয়া ধরব ধারে কাটাব সহস্র রকম
লটারি, তোমার সঙ্গে ধনলক্ষ্মী জীবন কাটাব
লটারি, তোমার সঙ্গে মেঘধন কাটাব জীবন।

দেখতে দেখতে পুজো আসবে, দুনিয়া চিত্‍কার করবে সেল
দোকানে দোকানে খুঁজব রূপসাগরে অরূপরতন
পাগলী, তোমার সঙ্গে পুজোসংখ্যা জীবন কাটাব
পাগলী, তোমার সঙ্গে রিডাকশনে কাটাব জীবন।

পাগলী, তোমার সঙ্গে কাঁচা প্রুফ জীবন কাটাব
পাগলী, তোমার সঙ্গে ফুলপেজ কাটাব জীবন
পাগলী, তোমার সঙ্গে লে আউট জীবন কাটাব
পাগলী, তোমার সঙ্গে লে হালুয়া কাটাব জীবন।

কবিত্ব ফুড়ুত্‍ করবে, পিছু পিছু ছুটব না হা করে
বাড়ি ফিরে লিখে ফেলব বড়ো গল্প উপন্যাসোপম
পাগলী, তোমার সঙ্গে কথাশিল্প জীবন কাটাব
পাগলী, তোমার সঙ্গে বকবকম কাটাব জীবন।

নতুন মেয়ের সঙ্গে দেখা করব লুকিয়ে চুরিয়ে
ধরা পড়ব তোমার হাতে, বাড়ি ফিরে হেনস্তা চরম
পাগলী, তোমার সঙ্গে ভ্যাবাচ্যাকা জীবন কাটাব
পাগলী, তোমার সঙ্গে হেস্তনেস্ত কাটাব জীবন।

পাগলী, তোমার সঙ্গে পাপবিদ্ধ জীবন কাটাব
পাগলী, তোমার সঙ্গে ধর্মমতে কাটাব জীবন
পাগলী, তোমার সঙ্গে পুজা বেদি জীবন কাটাব
পাগলী, তোমার সঙ্গে মধুমালা কাটাব জীবন।

দোঁহে মিলে টিভি দেখব, হাত দেখাতে যাব জ্যোতিষীকে
একুশটা উপোস থাকবে, ছাব্বিশটা ব্রত উদযাপন
পাগলী, তোমার সঙ্গে ভাড়া বাড়ি জীবন কাটাব
পাগলী, তোমার সঙ্গে নিজ ফ্ল্যাট কাটাব জীবন।

পাগলী, তোমার সঙ্গে শ্যাওড়াফুলি জীবন কাটাব
পাগলী, তোমার সঙ্গে শ্যামনগর কাটাব জীবন
পাগলী, তোমার সঙ্গে রেল রোকো জীবন কাটাব
পাগলী, তোমার সঙ্গে লেট স্লিপ কাটাব জীবন।

পাগলী, তোমার সঙ্গে আশাপূর্ণা জীবন কাটাব
আমি কিনব ফুল, তুমি ঘর সাজাবে যাবজ্জীবন
পাগলী, তোমার সঙ্গে জয় জওয়ান জীবন কাটাব
পাগলী, তোমার সঙ্গে জয় কিষান কাটাব জীবন।

সন্ধেবেলা ঝগড়া হবে, হবে দুই বিছানা আলাদা
হপ্তা হপ্তা কথা বন্ধ মধ্যরাতে আচমকা মিলন
পাগলী, তোমার সঙ্গে ব্রক্ষ্মচারী জীবন কাটাব
পাগলী, তোমার সঙ্গে আদম ইভ কাটাব জীবন।

পাগলী, তোমার সঙ্গে রামরাজ্য জীবন কাটাব
পাগলী, তোমার সঙ্গে প্রজাতন্ত্রী কাটাব জীবন
পাগলী, তোমার সঙ্গে ছাল চামড়া জীবন কাটাব
পাগলী, তোমার সঙ্গে দাঁতে দাঁত কাটাব জীবন।

এর গায়ে কনুই মারব রাস্তা করব ওকে ধাক্কা দিয়ে
এটা ভাঙলে ওটা গড়ব, ঢেউ খেলব দু দশ কদম
পাগলী, তোমার সঙ্গে ধুলোঝড় জীবন কাটাব
পাগলী, তোমার সঙ্গে ‘ভোর ভয়োঁ’ কাটাব জীবন।
Writer information NILKANTO